যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনাকে বরখাস্ত করলেন জেলেনস্কি
অনলাইন ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত নিজ দেশের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনাকে পদ থেকে বরখাস্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার (৩ আগস্ট) জারি করা এক বিশেষ সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
গত মাসে ইউক্রেনীয় প্রশাসনে ও মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের পর শীর্ষপর্যায়ের এই পদক্ষেপটি কূটনৈতিক মহলে অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্টেফানিশিনার বরখাস্তের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় আরও 'প্যাট্রিয়ট' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে ওয়াশিংটনের দরবারে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কিইভ।
তবে বরখাস্তের আদেশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় স্টেফানিশিনা জানান, তিনি মূলত ব্যক্তিগত কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের পদত্যাগপত্রের ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। ওয়াশিংটনের জটিল রাজনৈতিক পরিবেশ সত্ত্বেও আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।”
উল্লেখ্য, সাবেক এই উপপ্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী গত বছরের জুলাইয়ে ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পান। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ টিকিয়ে রাখতে ইউক্রেন মার্কিন সামরিক সহায়তা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতের পদটি কিইভের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার সম্পর্ক পূর্বে কিছুটা টানাপোড়েনপূর্ণ থাকলেও সম্প্রতি ইউক্রেনীয় নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর খবর অনুযায়ী, দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন সংস্থা স্টেফানিশিনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
সরকারে রদবদলের ধারা বজায় থাকলেও ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ এই খালি পদে জেলেনস্কি নতুন কাকে নিয়োগ দিচ্ছেন, সে সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি প্রেসিডেন্ট দপ্তর।
|