দিল্লিগামী বিমানে মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনি, আহত ১২
থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী ফুকেট থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আসার পথে আকাশপথে ভয়াবহ ও তীব্র ঝাঁকুনির (টার্বুলেন্স) মুখে পড়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বাণিজ্যিক বিমান। মাঝ আকাশে হঠাৎ বিমানের উচ্চতায় তীব্র পতন ও অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে কেবিনের অভ্যন্তরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যাতে কমপক্ষে ১২ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইটটিতে মোট ১৩৪ জন যাত্রী অবস্থান করছিলেন। স্বল্প সময়ের জন্য সৃষ্ট এই তীব্র বায়ুমণ্ডলীয় ঝাঁকুনির কারণে বিমানটি মারাত্মকভাবে কেঁপে ওঠে। তবে পরবর্তীতে পাইলটদের দক্ষতায় বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এবং সব যাত্রী ও বিমানকর্মীকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রীরই জীবন আশঙ্কাজনক নয়। কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু সামান্য আঘাত পেয়েছেন। বিমানটি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার পরপরই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়েছে কোম্পানির উদ্ধার ও বিশেষ মেডিকেল টিম। তবে টার্বুলেন্সের ধাক্কায় বিমানটির অভ্যন্তরের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অবতরণের পর আতঙ্কগ্রস্ত এক যাত্রী নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “উড্ডয়নরত অবস্থায় হঠাৎ বিমানটির উচ্চতা একধাক্কায় অনেকটা নিচে নেমে যায়। ঝাঁকুনির তীব্রতায় আমার মাথা সোজা কেবিনের ছাদের সঙ্গে আঘাত করে এবং আমি নিজের আসন থেকে ছিটকে মেঝেতে পড়ে যাই। কেবিনের অনেকের শরীর ও মাথায় আঘাত লেগেছে।”
বিবৃতিতে এয়ার ইন্ডিয়া আরও জোর দিয়ে বলেছে, যাত্রী ও নিজেদের ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বাত্মক অগ্রাধিকার। আঘাতপ্রাপ্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং কীভাবে এমন পরিস্থিতি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
(সূত্র: এনডিটিভি)
|