এবার বাব আল-মানদাব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের

এবার বাব আল-মানদাব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুথিদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় পারস্য উপসাগরীয় কোনও দেশ অংশ নিলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন।

হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোহাম্মদ মনসুর সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান ও লেবাননের ওপর আগ্রাসন যদি মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছায় অথবা কোনও উপসাগরীয় দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র বা জায়নবাদী ইসরায়েলের সমর্থনে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়, তবে বাব আল-মানদাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটি আমাদের ইয়েমেনি বিকল্প, যা বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের আছে।

সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে নিজ ভূখণ্ডে ইরানি হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এমনকি আমিরাত শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে গত শনিবার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। গত বুধবার তারা তৃতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে, যা ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হুথিরা এই মুহূর্তে যুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এশীয় বাজারে তেল রফতানির জন্য বাব আল-মানদাব প্রণালিই প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে হুথিরা এই জলপথ বন্ধ করলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের বিপর্যয় নামতে পারে।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুথিরা উত্তর ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের সমর্থনে গাজা যুদ্ধ চলাকালীন লোহিত সাগরে শতাধিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল তারা। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হুথিদের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কা করলে মোহাম্মদ মনসুর বলেন, আমরা জানি কীভাবে আমাদের অধিকার কেড়ে নিতে হয়; সংঘাত আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে জাতিসংঘ-ঘোষিত শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটন সেন্টার ফর ইয়েমেনি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফাতিমা আবু আলাসরার মনে করেন, হুথিরা যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কথা বলে মূলত নিজেদের জনসমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে আগের মতো ব্যাপক আকারে হামলা চালানো তাদের জন্য কঠিন হতে পারে, কারণ মার্কিন হামলায় ইরানের বন্দর আব্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হুথিদের অস্ত্র সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চ্যাথাম হাউসের ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ ফারিয়া আল-মুসলিমির মতে, ইরান এখন হুথিদের ওপর চাপ দিচ্ছে আরও সক্রিয় হওয়ার জন্য। লেবাননের হিজবুল্লাহর সক্ষমতা গত দুই বছরে ইসরায়েলি অভিযানে অনেকটা কমে আসায়, হুথিরা এখন ইরানের প্রক্সি নেটওয়ার্ক-এ নিজেদের অবস্থান আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চাইছে। তিনি বলেন, হুথিরা এখন ইরানের সবচেয়ে মূল্যবান তুরুপের তাস।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন