ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট: জন্ম থেকেই দুই হাত অচল, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। লালমনিরহাটের উত্তর সাপটানা শাহীটারী এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফা খাতুন এখন এক অনুপ্রেরণার নাম। দুই হাত ছাড়াই পা দিয়ে লিখে তিনি এখন মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
আরিফা লালমনিরহাটের উত্তর সাপটানা শাহীটারী এলাকার মৃত আব্দুল আলীর ছোট সন্তান। অভাবের সংসারে বড় হলেও পড়াশোনার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ।
প্রাথমিক: স্থানীয় ব্র্যাক স্কুল থেকে ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
জেএসসি: ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৪.৪৪ অর্জন করেন।
এসএসসি ও এইচএসসি: লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি এবং মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষা: বর্তমানে লালমনিরহাট সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্সে উত্তীর্ণ হয়ে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
আরিফার বাবা শহরের ফুটপাতে তালা-চাবির কাজ করতেন, যিনি চার বছর আগে মারা যান। মা মমতাজ বেগম অভাবের সংসারেও মেয়ের পড়াশোনা থামতে দেননি। বর্তমানে মা-মেয়ের এই সংসার চলে আরিফার টিউশনির আয়ে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুটি অপারেশন হলেও আরিফার আত্মবিশ্বাস একবিন্দুও কমেনি।
মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, "আরিফা অত্যন্ত মেধাবী এবং তার পা দিয়ে লেখা অনেক চমৎকার। তার অদম্য আত্মবিশ্বাস তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।"
মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, "আরিফা প্রমাণ করেছে ইচ্ছাশক্তি থাকলে শারীরিক সমস্যা কোনো বাধা নয়। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি তার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে হাত বাড়িয়ে দেন, তবে সে দেশের সম্পদে পরিণত হবে।"
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা পারভীন অদম্য এই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আরিফা খাতুন স্বপ্ন দেখেন পড়াশোনা শেষ করে একজন শিক্ষক হওয়ার। পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সমাজ ও দেশের সেবা করতে চান তিনি। জীবনের কঠিন প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে আরিফা এখন লালমনিরহাটের গর্ব।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ