দেশের বাজারে আবার অস্থির হয়ে উঠেছে ডিমের বাজার। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খামারের ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে এই বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৪০ টাকা। মাছ-মাংসের চড়া দামের কারণে যারা প্রোটিনের জন্য ডিমের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেই নিম্ন আয়ের মানুষ।
বর্তমানে রাজধানীর বড় বাজারগুলোতে এক ডজন বাদামি ডিম ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। হালি হিসেবে কিনতে গেলে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। সরকারি সংস্থা টিসিবি’র তথ্যমতে, গত এক মাসে ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ।
ডিমের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে খামারি ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দায়ী করছেন
ব্যবসায়ীদের দাবি, মাসখানেক আগে মুরগির দাম বেশি থাকায় অনেক খামারি ডিম পাড়া মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এছাড়া তাপদাহ ও ভাইরাসের কারণে অনেক মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে।
প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন 'বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন' (বিপিএ)-এর মতে, ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতি। তাদের অভিযোগ, বড় ব্যবসায়ীরা হিমাগারে ডিম মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন এবং নিজেদের সুবিধামতো দাম বাড়াচ্ছেন।
তবে তেজগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, চাহিদার তুলনায় তেজগাঁওয়ের ডিমের সরবরাহ খুবই সামান্য, তাই তাদের পক্ষে এককভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তাতে নতুন করে যুক্ত হলো ডিম। পুষ্টিবিদ ও ভোক্তাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিমের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে শিশু ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর পুষ্টি নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর এই বাড়তি খরচের বোঝা চেপেছে।
জান্নাত/সকালবেলা