আড়াই হাজার কোটি টাকার জিরো সিগন্যাল প্রকল্প কতটা বাস্তবসম্মত

প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ
আড়াই হাজার কোটি টাকার জিরো সিগন্যাল প্রকল্প কতটা বাস্তবসম্মত
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে ২,৬৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট মডেল’ বাস্তবায়নের প্রস্তাবকে ঘিরে এর বাস্তবমুখিতা ও কার্যকারিতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইনোভেশন টিমের তৈরি করা এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর মোট ১০৫ কিলোমিটার প্রধান সড়ককে সংযুক্ত করে ‘জিরো সিগন্যাল এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যেখানে ট্রাফিক সিগন্যাল ছাড়াই যানবাহন অবিরাম চলাচল করতে পারবে। এই করিডোরগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ১৬টি ওভারপাস/আন্ডারপাস, ১৩টি ইউ-লুপ ওভারপাস এবং ৭টি ইন্টারচেঞ্জ সার্কেল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে শহরের অভ্যন্তরীণ সিগন্যালগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) স্মার্ট অটোমেশন জোনে রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে। 
প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে আনুমানিক চূড়ান্ত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২,৬৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা (যা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা)। তবে পরিবহন প্রকৌশল ও নগর পরিকল্পনাবিদদের একাংশ মনে করছেন, ঢাকার বর্তমান ভৌগোলিক বাস্তবতা, ঘনবসতি এবং বহুমুখী গতিসম্পন্ন যানবাহনের কারণে পুরোপুরি সিগন্যাল-মুক্ত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন অত্যন্ত জটিল হবে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার অধিকাংশ মোড়ে পর্যাপ্ত জায়গার তীব্র অভাব রয়েছে, যার ফলে আন্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ বা ইউ-লুপ নির্মাণ করা কাঠামোগতভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি রিকশার মতো ধীরগতির এবং প্রাইভেট কারের মতো দ্রুতগতির মিশ্র যানবাহন একই রাস্তায় চলায় লেনের শৃঙ্খলা রক্ষা করা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া পথচারীদের পারাপার নিরাপত্তা, ভূগর্ভস্থ সেবামূলক লাইনের স্থানান্তর জটিলতা এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 
দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বড় বাজেটের অবকাঠামো তৈরি করলেই ঢাকার চেনা যানজট কমবে না। এর জন্য রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি বা গণপরিবহন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখা এবং কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা ছাড়া এই মেগা প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে। মূল কাজ শুরুর আগে তাই আন্তর্জাতিক মানের একটি নিখুঁত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি টেস্ট) করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন