‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের প্রধানদের আশ্রয়দাতা এক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ণ
‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের প্রধানদের আশ্রয়দাতা এক্সেল বাবুসহ গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর আদাবরে বিকাশ এজেন্টের দোকানে প্রকাশ্যে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং থানা পুলিশের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘কব্জি কাটা’ গ্রুপের শীর্ষ পৃষ্ঠপোষক বা ‘গুরু’ এক্সেল বাবুসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত মোহাম্মদপুর, আদাবর ও মিরপুরের ৬ ফিট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফরিদ উদ্দিন বাবু ওরফে এক্সেল বাবু, কব্জি কাটা গ্রুপের বর্তমান সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাঈদ, রাশেদ খন্দকার, মো. লিটন, মো. তসির এবং মো. তরিকুল ইসলাম। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, চাপাতি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশ দোকানে ঢুকে সন্ত্রাসীরা এজেন্টকে কুপিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ তুরাগ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালালে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে আদাবর থানার ওসি জাইদুল ইসলাম ও এসআই তরুণ গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশের আত্মরক্ষার্থে চালানো গুলিতে আমির ও রুবেল নামের দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধসহ মোট ৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে এই চক্রের মূলহোতাদের ধরতে র‍্যাব অভিযানে নামে।”

র‍্যাব কর্মকর্তা জানান, কব্জি কাটা গ্রুপের প্রধান আনোয়ার ও বর্তমান প্রধান আবু সাঈদের মূল ‘গুরু’ বা আশ্রয়দাতা হলেন এই এক্সেল বাবু। তার ছত্রছায়ায় মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকায় এই গ্যাংটি ছিনতাই ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। মূল গ্রুপপ্রধান আনোয়ার গ্রেপ্তারের পর আবু সাঈদই এই গ্যাংটির ‘কিং’ হিসেবে মাঠ নিয়ন্ত্রণ করছিল।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের পদক্ষেপ জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডিআইজি নাঈমুল হাসান সাম্প্রতিক রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত রায়ের উদাহরণ টেনে বলেন, “এ ধরনের ছিনতাইকারী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোনো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা যেত, তবে দেশের মানুষ আরও বেশি নিরাপদ বোধ করত।”

মন্তব্য করুন