শিশুর জ্বরে কখন ও কীভাবে প্যারাসিটামল খেতে দেবেন
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলেই কেবল প্যারাসিটামল দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে শিশুর ওজনের ভিত্তিতে, বয়সের ভিত্তিতে নয়। সাধারণত প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম হারে হিসাব করা হয়।
প্রায় ৮ কেজি ওজনের শিশুর জন্য সাধারণত ৫ মিলিলিটার বা এক চা-চামচ সিরাপ কার্যকর। ১৬ কেজি ওজনের শিশুর জন্য দুই চা-চামচ দেওয়া যেতে পারে। এটি সাধারণত প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর দিনে সর্বোচ্চ চারবার দেওয়া যায়। শিশু সিরাপ খেতে না পারলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন ভেদে সাপোজিটরি ব্যবহার করা যেতে পারে (আট ঘণ্টা অন্তর দিনে সর্বোচ্চ তিনবার)।
ওষুধটি নিরাপদ ভেবে নিজের ইচ্ছামতো বারবার প্রয়োগ করা উচিত নয়। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান না মানলে বা অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করালে শিশুর লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘুম বা খিঁচুনির মতো লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
শিশুর জ্বর হলেই অনেকে মনে করেন অ্যান্টিবায়োটিক দিলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। অথচ শিশুদের অধিকাংশ জ্বরের কারণ ভাইরাসজনিত, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করলে শিশুর শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ বা ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
শিশুর জ্বর হলে প্রথমেই তাপমাত্রা মেপে দেখুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্যারাসিটামল দিন। জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, শিশু অস্বাভাবিক দুর্বল হয়ে পড়লে, খিঁচুনি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
জান্নাত সকালবেলা
|