চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার আশুলিয়ায় চার্জে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান (৪৫) মারা গেছেন।
রবিবার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মিজানুর রহমান ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের সিদ্দিক ভেণ্ডার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার সোনিয়া মার্কেট এলাকায় স্টক লটের ব্যবসা করতেন এবং রশিদ মার্কেট সংলগ্ন আলীমের বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে একাই থাকতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ মিজানের ঘর থেকে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পরপরই ঘর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে মিজানের আর্তচিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে মিজানের কক্ষের বারান্দার তালা ভেঙে ঘরের ভেতর থেকে তাঁকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের আসবাবপত্রের কিছু অংশ পুড়ে যায় এবং মোবাইল ফোনের পোড়া অংশ ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দগ্ধ মিজানকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠান। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, বিস্ফোরণে তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
নিহতের স্বজন শওকত ওসমান সুজন জানান, মিজানুর রহমান ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। মৃত্যুকালে তিনি মা, স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক ছেলে সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। আজ সোমবার (১৫ জুন) মিজানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করার কথা রয়েছে।
এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ব্যবহার করছিলেন অথবা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ওভার হিটিং বা অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে মোবাইল ফোন দুটি বিস্ফোরিত হলে তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
|