পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ণ
পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সুসংহত করার পাশাপাশি পড়ালেখার একঘেয়েমি দূর করতে অচিরেই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য বিনোদন ও খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে এটিকে মূল স্কুল পাঠ্যক্রমের (Curriculum) অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘প্রাথমিক, গণশিক্ষা ও টুর্নামেন্ট আপডেট’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে স্কুল শিক্ষা সংস্কার ও গোল্ডকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত আসরের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দেশব্যাপী আয়োজিত ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আসরের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই বিশেষ তথ্য জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমাদের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কেবল চার দেয়ালের মাঝে বইয়ের পাতায় বন্দি রাখলে চলবে না। তাদের শারীরিক সুস্থতা ও মননশীল সমাজ গঠনের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে শৈশব থেকেই ক্রীড়ামোদী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমের একটি আবশ্যক অংশ হিসেবে যুক্ত করা হচ্ছে। আর শিশুদের মাঝে খেলাধুলার এই সার্বজনীন আবহ ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর প্রাথমিক স্তরে এই বৃহৎ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে শিশুদের সবচেয়ে বেশি স্নেহ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। শিশুদের জন্য একটি ভীতিহীন ও অত্যন্ত আনন্দময় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ (Learning with Happiness) নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়াতে সরকার শিগগিরই সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে সরকারি স্কুল ড্রেস বিতরণের এক মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”

শিক্ষার মানোন্নয়নে পুষ্টির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “স্কুলের শিশুরা যেন কোনোভাবেই পুষ্টিহীনতায় না ভোগে এবং শ্রেণিকক্ষে পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারে, সেজন্য বর্তমান সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর ‘মিড ডে মিল’ (স্কুল ফিডিং কর্মসূচি) চালু করেছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে যে, চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ মিড ডে মিলের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। কারণ এই শিশুদের সুস্বাস্থ্যের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আমাদের আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল দেশব্যাপী ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে একযোগে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল। এবারের আসরে দেশের মোট ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লাখো শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বালক বিভাগে ৬৫ হাজার ৩৪২টি দলের মোট ১১ লাখ ১০ হাজার ৮১৪ জন খেলোয়াড় এবং বালিকা বিভাগে ৬৫ হাজার ৩২১টি দলের মোট ১১ লাখ ৩ হাজার ২৯১ জন খুদে খেলোয়াড় অংশ নেয়।

ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে উপজেলা বা থানা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলাগুলো গত ২৩ মে সফলভাবে শেষ হয়। আজ থেকে শুরু হওয়া মূল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে দেশের ৮টি বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হওয়া ৮টি বালক দল এবং ৮টি বালিকা দলসহ মোট ১৬টি দল নকআউট পদ্ধতিতে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। এই চূড়ান্ত পর্বের খেলার মধ্য দিয়েই টুর্নামেন্টের জমকালো সমাপ্তি ঘটবে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন