কটিয়াদীতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য: ওসি

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য: ওসি

মিজানুর রহমান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া গ্রামে এক বিধবা নারীকে উত্যক্ত ও হুমকির ঘটনায় থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় একটি মহল বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই মনগড়া তথ্য প্রচার করছে।

কটিয়াদী মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল দক্ষিণ চরপুক্ষিয়া গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহানের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে বাদীকে আপস-মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আক্তার হোসেন বলেন, “বাদীপক্ষকে কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। বরং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে ভবিষ্যতে বাদী বা তাঁর পরিবারের কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কটিয়াদী মডেল থানার ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। পুলিশের বিরুদ্ধে আসামির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার বিন্দুমাত্র ভিত্তি নেই।”

তিনি আরও বলেন, কুলিয়ারচর উপজেলার কাইসার হামিদ নামে এক সংবাদকর্মী ওসির কোনো বক্তব্য গ্রহণ না করেই “আজকের গ্রাম বাংলা” নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ ঘটনায় মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছেন, যা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।

ওসি জানান, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে অসহায় নারী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তদন্তাধীন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পুলিশের আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তারা সবাইকে এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন