চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ছটফটে দুই শিশুর আনন্দঘন মুহূর্ত মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে গভীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে জেসমিন খাতুন (৮) ও ইসরাত খাতুন (৭) নামে দুই অবুঝ শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

আজ শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল।

নিহত জেসমিন খাতুন সদর উপজেলার বাখের আলী গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে এবং ইসরাত খাতুন একই উপজেলার চাকপাড়া গ্রামের কাজল আহাদের মেয়ে। তারা সম্পর্কে প্রতিবেশী বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার দুপুরে তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে বাড়ির পাশে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে জেসমিন ও ইসরাত। গোসলের একপর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোত ও গভীর পানির টানে তারা দুজনেই তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বেশ কিছু সময় পার হলেও তারা বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা নদীর ঘাটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

প্রথমে স্থানীয় এলাকাবাসী নদীতে নেমে দীর্ঘক্ষণ জাল ফেলে ও ডুব দিয়ে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা-পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পদ্মা নদীতে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম লিডার আব্দুর রাজ্জাক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নদীতে অতিরিক্ত পানি ও তীব্র স্রোত থাকার কারণে আমাদের উদ্ধার অভিযান চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে এবং কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে দীর্ঘ চেষ্টার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আমরা জেসমিন ও ইসরাতের নিথর দেহ নদী থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।”

এদিকে দুই শিশুর মরদেহ একসঙ্গে বাড়িতে আনা হলে বাখের আলী ও চাকপাড়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদ ও আহাজারিতে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে জানান, “পদ্মা নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন