সাড়ে ৪ বছর সৌদিতে, তবুও পদে বহাল শিক্ষক
মোঃ সোহেল রানা, বরগুনা: বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক ইবতেদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকেও ওই শিক্ষকের নাম এখনো মাদ্রাসার শিক্ষক তালিকায় থাকায় প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জবাবদিহিতা নিয়ে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আঃ সোবহান। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওমরাহ পালনের কথা বলে ছুটি নিয়ে সৌদি আরবে যান। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রশ্ন উঠেছে—একজন শিক্ষক বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও কীভাবে তাঁর নাম প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তালিকায় বহাল থাকে? মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যদি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে থাকে, তাহলে এতদিনেও কেন এর প্রশাসনিক নিষ্পত্তি হয়নি—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কাঁঠালতলী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাসুম বিল্লাহ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে ওমরাহ পালনের কথা বলে ছুটি নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি মাদ্রাসা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি এবং তাঁর নামই বা এখনো শিক্ষক তালিকায় কীভাবে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কাঁঠালতলী এলাকায় মাত্র দেড় কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এতগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
এ ছাড়া সর্বশেষ দাখিল পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি; বরং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষার্থী সংখ্যা ও ফলাফলের সরকারি তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সামনে অবস্থিত মসজিদের অনুদানের টাকা বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা আঃ সোবহান আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময় আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। পরে তিনি প্রবাস জীবন বেছে নেন। তাঁদের ভাষ্য, মাদ্রাসা থেকে পাওয়া বেতন দিয়ে তাঁর ঋণের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে সৌদি আরবে থাকায় তাঁর বক্তব্য সরাসরি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বেতাগী উপজেলা প্রশাসক মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সুপার তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন ইবতেদায়ী শিক্ষক কীভাবে ওমরাহ পালনের কথা বলে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন? বছরের পর বছর অনুপস্থিত থাকার পরও কীভাবে তাঁর চাকরি ও নাম বহাল রয়েছে? এর পেছনে কারও সহযোগিতা বা গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এআইএল/সকালবেলা