রাজনগরে স্লুইস গেট যেন কৃষকদের গলার কাঁটা

রাজনগরে স্লুইস গেট যেন কৃষকদের গলার কাঁটা

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রশাসনের গাফিলতি ও অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে ভেস্তে গেছে একটি বৃহৎ সেচ প্রকল্প। উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের পাহাড়ি ধামাইছড়াতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি স্লুইস গেট দীর্ঘ ১০ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে এই অঞ্চলের কৃষকদের সেচ সুবিধার বদলে গেটগুলো এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোরো ও রবি মৌসুমে পানির চাহিদা মেটাতে জাইকার (JICA) অর্থায়নে বড়দল ও চাঁনভাগ এলাকায় দুটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তা স্থানীয় সমিতির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র ৬ মাসের মাথায় ২০১৬ সালের মে মাসে পাহাড়ি ঢলে বড়দল গেটের পাড় ভেঙে যায় এবং পানির চাপে পার্শ্ববর্তী টিলা ধসে পড়ে। এরপর থেকে পাহাড়ি ছড়াটি গেটের নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে নতুন গতিপথ তৈরি করে নিয়েছে। একই দশা হয়েছে চাঁনভাগ এলাকার গেটটিরও।

নির্মাণের পর এক মৌসুমেও গেট দুটির সুফল পাননি কৃষকরা। ফলে বাধ্য হয়ে প্রতি বছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিজস্ব তহবিলে ব্যয় করে মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকে ফসল চাষ করতে হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়া দীর্ঘ সময় অকেজো পড়ে থাকায় চোরেরা গেটের মূল্যবান পাইপ কেটে নিয়ে গেছে এবং গেটের কপাট বন্ধ থাকায় নিচে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে।

ধামেশ্বরী ক্ষুদ্র পানিসম্পদ উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক জানান, মেরামতের জন্য বারবার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও কোনো ফল মেলেনি। স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহ্ শাহিদুজ্জামান ছালিক একে একটি ‘ব্যর্থ প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল গনী বলেন, "আমি এখানে নতুন এসেছি এবং সরেজমিনে গেট দুটি দেখেছি। এগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।"

কৃষকদের মতে, এই স্লুইস গেট দুটি সচল করা হলে উত্তরভাগ ইউনিয়নের ভুরভুরির বিল, বড়দল ও চাঁনভাগসহ হাওর এলাকার প্রায় ৩ হাজার একর জমিতে সহজে ও কম খরচে চাষাবাদ করা সম্ভব হতো। এতে করে স্থানীয় অনেক পতিত জমিও চাষাবাদের আওতায় আসত।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন