ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ মনোয়ার হোসেন, রাজশাহী: রাজশাহী বিভাগে শিশুদের মাঝে অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ ‘হাম’ (Measles) আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ২৯ শতাংশের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো, বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসোলেশন ও আইসিইউ সংকটে প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা।
রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ১৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলাতেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। গত ২৩ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিল। বর্তমানে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় সংক্রমণ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হলেও রামেক হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে অন্য সুস্থ শিশুদের মাঝেও ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে ‘হাম’ শব্দটি উল্লেখ না করে ‘নিউমোনিয়া’ বা অন্যান্য কারণ দেখানো হচ্ছে। তবে গত ১৮ মার্চ মারা যাওয়া আড়াই মাস বয়সী জহির নামের এক শিশুর মৃত্যু সনদে ‘হাম’ এর উল্লেখ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করতেই এমনটি করা হতে পারে।
রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহিদা ইয়াসমিন জানান, ২০০ শয্যার বিপরীতে ৭০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে বেসরকারি বারিন্দ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও বিপুল সংখ্যক শিশু একই উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেলাল উদ্দিন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পাবনা ও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে সফর করছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি রয়ে গেছে।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ