কয়রায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান: আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

কয়রায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান: আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের 'গাজী আব্দুল জব্বার হাইস্কুল এন্ড কলেজ'-এ পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারহীন ভবনটির পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে ২০০০ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায় একাডেমিক ভবনটি নির্মিত হয়। তবে আইলা, ইয়াস ও রিমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে বারবার নোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ভবনটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির জানালা-দরজা বলতে কিছু নেই; ছাদ ও পিলারে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শ্রেণিকক্ষের ছাদ ভেঙে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, "বইয়ের চেয়ে ছাদের দিকে বেশি তাকিয়ে থাকতে হয়, কখন মাথার ওপর ভেঙে পড়ে সেই ভয়ে। অনেকেই এই আতঙ্কে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।"

বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, "ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদানে মন বসে না। টিনশেডের অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মনোরম পরিবেশে পাঠদানের জন্য একটি নতুন ভবন অত্যন্ত প্রয়োজন।"

প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল সাইফুল হায়দার জানান, মূল ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুফল মেলেনি।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, "নতুন ভবন এখানে আশু প্রয়োজন। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছি যাতে দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যায়।"

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, "শিক্ষার মানোন্নয়নে উপযুক্ত পরিবেশ আগে প্রয়োজন। আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এখানে একটি 'স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার' নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"

উপকূলীয় এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন