ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি এবার শক্তিশালী ইএমপি (EMP) বা বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গ হামলার শঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে জোর কানাঘুষা চলছে। ইএমপি হলো এমন এক প্রচণ্ড শক্তিশালী তরঙ্গের ঝাপটা, যা সরাসরি কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটালেও নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত ইলেকট্রনিক্স এবং বৈদ্যুতিক গ্রিডকে এক নিমেষে পুড়িয়ে বা অকেজো করে দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সভ্যতা মূলত সেমিকন্ডাক্টর এবং মাইক্রোচিপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এই প্রযুক্তির একটি সফল আক্রমণ এক ধাক্কায় একটি দেশকে কার্যত আদিম যুগে পাঠিয়ে দিতে পারে।
একটি শক্তিশালী ইএমপি হামলা হলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ট্রান্সফরমারগুলো পুড়ে গিয়ে পুরো দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট এবং স্যাটেলাইট রিসিভারগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেবে। আধুনিক গাড়ি, বিমান বা ট্রেনের কন্ট্রোল সিস্টেম অকেজো হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকিং ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে। এটিএম থেকে টাকা তোলা বা সুপারশপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। ফলাফল হিসেবে মানুষ বেঁচে থাকলেও টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় কোনো আধুনিক প্রযুক্তি তাদের হাতে অবশিষ্ট থাকবে না। আন্তর্জাতিক মহলে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) সঙ্গে যুক্ত করে ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে অপহরণের সময় যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এ ধরনের প্রযুক্তিরই ব্যবহার করেছিল।
বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকরা তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করছেন। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র মেরিন সেনা পাঠিয়ে ইএমপি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করে তাদের ইউরেনিয়াম তুলে নিয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ইরানি মিসাইল আক্রমণ মোকাবিলা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েল এক পর্যায়ে খোদ ইরানেই ইএমপি আক্রমণ করে বসতে পারে। তৃতীয়ত, ইরানের বিদ্যুৎখাতে কোনো হামলা হলে ইরানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে ইএমপি হামলা চালিয়ে তাদের অন্ধকারে ডুবিয়ে দিতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানের জ্বালানিমন্ত্রী সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, তাদের বিদ্যুৎখাতে আক্রমণ হলে তারা মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে পুরো উপসাগরীয় দেশগুলোকে অন্ধকারে পরিণত করবেন। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ে এমন হুমকি বাস্তবায়ন করতে হলে ইএমপি হামলার বিকল্প নেই।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অত্যাধুনিক ইএমপি প্রযুক্তি চীনের হাত ঘুরে ইরানের কাছে পৌঁছানো খুব একটা বিচিত্র নয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধের যে ফতোয়া রয়েছে, ইএমপি হামলার ক্ষেত্রে সেটিও লঙ্ঘিত হয় না। কারণ, এই হামলায় সরাসরি মানুষের কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক ক্ষতি হয় না, বরং প্রযুক্তি ও অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে বিপুল ধ্বংসযজ্ঞের মুখে ফেলে দেওয়া যায়।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ