কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অনিয়ম: সেবা বঞ্চিত রোগীরা

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অনিয়ম: সেবা বঞ্চিত রোগীরা

ফজলে রাব্বি, কালিয়াকৈর : গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুন নাহার ইতির স্বেচ্ছাচারিতায় ভেঙে পড়েছে চিকিৎসা সেবা। 

সরকারি এই হাসপাতালে রোগীদের চেয়ে দালালদের কদর বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং নোংরা বিছানাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি ওষুধ সরবরাহের তালিকায় অনেক ওষুধের নাম থাকলেও রোগীদের কেবল প্যারাসিটামল, এন্টাসিড ও হিস্টাসিন দিয়েই বিদায় করা হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

হাসপাতালের আরএমও ডা. নাজমুন নাহার ইতি প্রায় এক যুগ ধরে এখানে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর ছত্রছায়ায় দালাল চক্র সক্রিয় এবং তিনি সরকারি কোয়ার্টারে না থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে এসে দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি তিনি নিজের কোয়ার্টারে ফিল্ড স্টাফদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাঁকে ছুটি না দিলেও তিনি তোয়াক্কা করছেন না। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা কথা বলতে গেলে তিনি অত্যন্ত অশোভন আচরণ করেন।

সেবা সংকটের চিত্র:

  • সিজারিয়ান বন্ধ: অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে দালালরা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

  • যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স: এক্স-রে মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি নষ্ট এবং অন্যটি চালকের অভাবে বন্ধ।

  • জনবল সংকট: টিকিট কাটার পরও অনেক সময় ডাক্তারদের দেখা মেলে না। নার্স বা ডিপ্লোমাধারীদের দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসা।

  • পরিবেশ: বাথরুমের দরজা ভাঙা এবং নোংরা পরিবেশের কারণে রোগীরা ওয়ার্ডে টিকতে পারছেন না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদিয়া তাসনিম মুনমুন জানান, আরএমও ডা. নাজমুন নাহার ইতি অনুমতি ছাড়াই এক মাসের বেশি সময় অনুপস্থিত রয়েছেন। এর আগে তাঁকে একাধিকবার শোকজ করা হলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। কালিয়াকৈরবাসী এই অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এন.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন