ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মোঃ মনিরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রশাসনের নানামুখী অভিযানের পরও থামছে না মাদকের রমরমা কারবার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে টরকী, কটকস্থল ও বার্থী এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের লেনদেন। এতে করে স্থানীয় জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নামার পরপরই চিহ্নিত কিছু স্পটে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মরণনেশার কেনাবেচা বেড়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় একদল চিহ্নিত মাদক কারবারি এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন:
“মাদকের কারণে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। আমরা চাই প্রশাসন কেবল লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনুক।”
মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান:
“মাদক নির্মূলে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। কেবল আইনি ব্যবস্থা নয়, সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবকদের নিয়ে ‘মাদকবিরোধী কমিটি’ গঠন করা হচ্ছে।”
গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তাঁর দায়িত্বকালিন সময়ে এ পর্যন্ত ৩০টিরও অধিক মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজাসহ বেশ কয়েকজন কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি যদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, তবেই গৌরনদীতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ