ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে তীব্র পানি সংকটে প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলার সাতটি উপজেলার অন্তত ৬০ হাজার কৃষক বর্তমানে এই সেচ সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন। আবাদের ভরা মৌসুমে অনেক জমিতে চারা রোপণের পর পানি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও সেচের অভাবে চারা রোপণই শুরু করতে পারছেন না কৃষকেরা। সেচনালা ভরাট হয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত ক্রসবাঁধ নির্মাণ এবং গভীর নলকূপের অপ্রতুলতায় হাওর ও নন-হাওর উভয় অঞ্চলেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জেলার হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির অভাবে অনেক আবাদী জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। কৃষকদের অভিযোগ, একর প্রতি ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে বোরো চাষ করলেও পানির অভাবে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছু পানি মিললেও মাঝামাঝি সময়ে এসে তা একেবারেই পাওয়া যায় না। বিশেষ করে কমলগঞ্জের লাঘাটা নদী, সদরের কুদালী ছড়া এবং কাউয়াদীঘি হাওরের ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচনালা খনন না করায় এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজনগর ও জুড়ী উপজেলার উজানের কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন স্থানে স্লুইসগেট ও ক্রসবাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখায় তারা ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে আরও অন্তত ৩০ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হতো। বর্তমানে জেলায় মাত্র ১৪টি সরকারি সৌর সেচ প্রকল্প চালু আছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, কোদালি ছড়াসহ বিভিন্ন ছড়া ও নালা দ্রুত খনন করা এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে সেচ পাম্পের ব্যবস্থা করলে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, বিভিন্ন নালা ও ছড়া দিয়ে পর্যাপ্ত পানি প্রবাহ না থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে যেন দ্রুত নালাগুলো খনন করা হয়। অন্যদিকে, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, যেসব এলাকায় সেচনালা আছে সেখানে কৃষকরা পানি পাচ্ছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ