রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা: কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ হামলার পর কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ মার্চ) নিউজন্যেশনের সাংবাদিক কেলি মেয়ারকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা প্রদান করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ট্রাম্পের এই মারমুখী অবস্থানের খবর নিশ্চিত করেছে।

সাংবাদিক কেলি মেয়ার জানান, রিয়াদ দূতাবাসে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর স্বরে বলেন, ‘রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে যে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, তার জবাব কী হবে তা আপনি খুব শীঘ্রই জানতে পারবেন।’ তবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে মার্কিন স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের কণ্ঠে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে। তিনি কেলি মেয়ারকে বলেন, এই মুহূর্তে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন স্থলবাহিনী ব্যবহার করা প্রয়োজন হবে বলে তিনি মনে করেন না। যদিও এর আগের দিনই তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে তিনি মোটেও ভীত নন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর তেহরান পাল্টা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায় ইরান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তেহরান দাবি করেছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলার প্রতিবাদ হিসেবেই তারা সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামোতে এই হামলা চালিয়েছে।

বর্তমানে রিয়াদের পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, রিয়াদে ফের ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘শিগগিরই জবাব’ দেওয়ার বার্তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন