কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষক রাজনীতি ফেরাতে তোড়জোড়

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শিক্ষক রাজনীতি ফেরাতে তোড়জোড়

কুবি প্রতিনিধি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিলুপ্ত হওয়া শিক্ষক সমিতি পুনর্গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন শিক্ষক সমিতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষকদের নিকট চিঠি পাঠানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর আবারও শিক্ষক রাজনীতি সক্রিয় করার এই উদ্যোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) নির্বাচনের আগে তারা ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার শিক্ষক সমিতি বা শিক্ষক রাজনীতি দেখতে চান না।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে আগামী ২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউঞ্জে এক মতবিনিময় সভা আহ্বান করা হয়েছে। চিঠিতে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন উল্লেখ করেন, দীর্ঘকাল সমিতি না থাকায় শিক্ষকরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এই স্থবিরতা নিরসনে নতুন প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন।

শিক্ষক সমিতির এই তৎপরতার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষক সমিতি বরাবরই ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলে মত্ত থাকে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখে না। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ ফয়সাল ও নাঈম ভুঁইয়াসহ অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, বিগত সময়ে শিক্ষক সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে দীর্ঘ সেশনজট ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে শিক্ষক সমিতি গঠন করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা কঠোরভাবে রুখে দেবেন।

এদিকে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভা আহ্বানের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কুবি শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্রের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সভা আহ্বানের এখতিয়ার কেবল সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো বৈধ কমিটি না থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে সভা আহ্বান করলেন, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, যেহেতু বর্তমানে কোনো কমিটি নেই, তাই জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, আপাতত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকদের প্রাধান্য দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুবি শিক্ষক সমিতিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা কখনোই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। সর্বশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি নীল প্যানেল জয়ী হয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন উপাচার্যের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘ তিন মাস প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অচল ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে নীল দলের শিক্ষকরা নতুন কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের জানিয়েছেন, সকল শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই নতুন কমিটি বা নির্বাচন কমিশন গঠন করা উচিত।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন