রেকর্ড দরপতনের পর বিশ্ববাজারে এবার স্বর্ণের দাম বাড়ল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:বিশ্ববাজারে টানা কয়েক দফা বড় দরপতনের পর মূল্যবান অলঙ্কার ধাতু স্বর্ণের বাজারে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর দরপতনের সুবিধা নিতে বড় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বাজারে ফিরেছেন। ফলে সস্তায় কেনার এক ধরনের হিড়িক তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মেটালটির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টা ৩১ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কমোডিটি, মেটাল ট্র্যাকিং ও ফরেন এক্সচেঞ্জ’ এবং ‘ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ, ইনফ্লেশন ইনডেক্স ও কারেন্সি মার্কেট উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
স্পট গোল্ড ও ফিউচার বাজারের সমীকরণ
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের (হাজির স্বর্ণ) দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,০৯৫.৬৪ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আজ দিনের শুরুতে এশীয় বাজারে লেনদেনের প্রথমার্ধেই ধাতুটির দাম কমে ৪,০২২.০৯ ডলারে নেমে গিয়েছিল, যা গত বছরের ২১ নভেম্বরের পর তথা দীর্ঘ ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রাইস রেকর্ড। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার বা আগাম বাজারের দর অবশ্য সামান্য শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১১৬.২০ ডলারে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টোনএক্স (StoneX)-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট ম্যাট সিম্পসন বাজারের এই গতিপ্রকৃতি নিয়ে বলেন, স্বর্ণের দাম যেভাবে টানা কমে ৪,০০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার কাছাকাছি চলে এসেছিল, তাতে বাজার থেকে একটি টেকনিক্যাল বা স্বাভাবিক রিবাউন্ড বা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা ছিলই। এই সুযোগে দরপতনের বড় সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা যেমন মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন, ঠিক তেমনই লোকসানে থাকা সাধারণ ক্রেতারাও সস্তায় নতুন করে স্বর্ণ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বুধবার মার্কিন কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পরও আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের সূচক খুব একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। ফলে এখন প্রোডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) বা উৎপাদনকারী পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির পরবর্তী তথ্যে যদি বড় কোনো নেতিবাচক চমক না থাকে, তবে খুব দ্রুতই স্বর্ণের বাজারে একটি টেকনিক্যাল বা সাময়িক বড় উত্থান দেখা যেতে পারে।
স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক হাওয়া লাগার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও আজ ভালো পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৩.৯৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১,৬৭১.০৯ ডলার এবং গাড়ি নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত অত্যন্ত মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের দাম একলাফে দুই দশমিক নয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,২৪৮.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের এই আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের দামে নতুন কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা নজর রাখছেন।
জান্নাত সকালবেলা
|