যশোরে গৃহবধূ-কিশোরীকে ধর্ষণ: লম্পট রকি গ্রেফতার
যশোর ব্যুরো: যশোরের শহরের চাঁচড়া মাগুরপট্টি এলাকায় একই ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও এক কিশোরীকে পর্যায়ক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণের এক পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রকি (২৪) নামের এক চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ।
গতকাল বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে শহরের ডালমিল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রকি ওই এলাকার রাজ্জাক হোসেনের ছেলে এবং পুলিশের অপরাধ তালিকায় সে একজন চিহ্নিত খুনের মামলার আসামি।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ওই বাড়ির একটি কক্ষে গৃহবধূ ও তাঁর ননদের কিশোরী মেয়ে একসাথে ঘুমিয়ে ছিলেন। গৃহবধূর স্বামী তখন বিশেষ কাজের প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে গভীর রাতে ঘরের ভেতরে কৌশলে ও গোপনে প্রবেশ করে লম্পট রকি। কক্ষের ভেতরে তীব্র অন্ধকার থাকায় প্রথমে সে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
প্রাথমিকভাবে গৃহবধূ ভাবেন তাঁর স্বামী হয়তো বাইরে থেকে ঘরে ফিরেছেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে সন্দেহ হলে তিনি জেগে ওঠেন এবং রকির পাশবিকতা বুঝতে পারেন। ওই সময় গৃহবধূ চিৎকার করতে গেলে রকি ধারালো অস্ত্রের মুখে তাদের দুজনকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ফেলে। এরপর সে ঘরে থাকা অসহায় কিশোরী মেয়েটির ওপরও চড়াও হয় এবং তাকেও ধর্ষণ করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গভীর রাতেই গৃহবধূর স্বামী বাড়ি ফিরলে ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বিস্তারিত জানান। ঘটনা শুনে স্বামী তাঁদের নিয়ে কালক্ষেপণ না করে সরাসরি যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) কাজী বাবুল বলেন, “পৈশাচিক এই ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযানে নামে। গভীর রাতেই মূল অভিযুক্ত রকিকে আমরা ডালমিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও কিশোরীকে ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রকির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”
এআইএল/সকালবেলা
|