ইউরোপ-আমেরিকাসহ ২২ দেশের যৌথ হুঁশিয়ারি ইরানকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বোমাবর্ষণ এবং তার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ১৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসি-র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে চলমান তীব্র সংঘাতের মাঝেই এবার নতুন কূটনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের বিদেশি উইং কুদস ফোর্সের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূখণ্ডে অনধিকার চর্চা ও প্রাণঘাতী ষড়ন্ত্রের অভিযোগ এনে তেহরানকে একযোগে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বমঞ্চের ২২টি দেশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি, পশ্চিমা জোট ও ইরান নিষেধাজ্ঞা খতিয়ান’ এবং ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি, কাউন্টার টেররিজম ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে ২২ দেশের এই কড়া হুঁশিয়ারির বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হলো।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের প্রধান প্রধান রাষ্ট্রসহ মোট ২২টি দেশের সরকার আজ বৃহস্পতিবার একযোগে একটি বিশেষ কূটনৈতিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো তেহরান প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, “আমাদের নিজ নিজ ভূখণ্ডে মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা, অপহরণ, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের গুপ্ত বা প্রকাশ্য আক্রমণের চেষ্টা চালানো জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রচলিত নিয়ম-নীতিকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষুণ্ন করে। ইরানের পক্ষ থেকে এসব অবৈধ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে এবং চিরতরে বন্ধ করতে হবে।”
যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো অভিযোগ করেছে যে, ইরানের এলিট ফোর্স তথা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা এবং তাদের বিদেশে গোপন অপারেশন পরিচালনাকারী বিশেষ শাখা ‘কুদস ফোর্স’ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ ও আমেরিকার মাটিতে অবস্থানরত ইরানি ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক নেতা, স্বাধীনচেতা সাংবাদিক এবং ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায় ও তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ‘প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র এবং ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে’ সরাসরি জড়িত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইহুদি উপাসনালয়, প্রবাসী ইরানি অ্যাক্টিভিস্ট এবং মার্কিন সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে যে ধারাবাহিক হামলা ও নাশকতামূলক অভিযান চালানো হয়েছে, তার পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছে ইরান। বিশেষ করে ইরান-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া’ এই ধরনের বেশ কিছু হামলার দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করার পর এই আন্তর্জাতিক জোট গঠন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
হুমকির সম্মুখীন হওয়া দেশগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “বিদেশি কোনো শক্তির দেওয়া এসব হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের নিজস্ব রাষ্ট্র এবং সাধারণ জনগণকে রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্পে আমরা সবাই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ।”
ইরানের বিরুদ্ধে এই বিশেষ যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা ২২টি দেশের চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, আলবেনিয়া এবং উত্তর মেসিডোনিয়া। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের এই একযোগে কূটনৈতিক চাপ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
জান্নাত সকালবেলা
|