বাজেটের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক:গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত নতুন অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের অর্থবিলে (Finance Bill) আনুষ্ঠানিক সম্মতিসূচক স্বাক্ষর প্রদান করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সংসদীয় রাজনীতি, সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ খতিয়ান’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, সামষ্টিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যাংক ঋণ উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে রাষ্ট্রপতির এই বাজেট অনুমোদনের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির বিশেষ লবি ও অফিস কক্ষে এই স্বাক্ষর পর্ব সম্পন্ন হয়। নিয়মানুযায়ী, অর্থমন্ত্রী কর্তৃক জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার ঠিক আগে অর্থবিলে রাষ্ট্রপতির এই অনুমোদন নিতে হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ৫৫তম এই বিশাল বাজেট প্রস্তাব সংসদের টেবিলে উত্থাপন করেন।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বিশাল জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎসের ওপর সুষমভাবে নির্ভর করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সরকারি খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন অর্থবছরে দেশের বর্তমান লাগামহীন মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নিয়মানুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের ঠিক আগে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভায় বাজেটটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি স্বাক্ষর প্রদান করেন।
জান্নাত সকালবেলা
|