৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখনন করবে সরকার

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ণ
৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখনন করবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও আকস্মিক বন্যার মতো জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশের সার্বিক পরিবেশ ও পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ধাপে ধাপে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও অভ্যন্তরীণ জলাধার খনন ও পুনঃখনন, যুগান্তকারী ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন এবং উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্যবদলে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিশাল বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সামষ্টিক অর্থনীতি, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ড্রেজিং খতিয়ান’ এবং ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, বনায়ন ও কার্বন ট্রেডিং উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থাপনার এই মেগা রূপরেখার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।

আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার টেকসই উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং লবণাক্ততা প্রতিরোধে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার খালের খননকাজ মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে।

এছাড়াও আগামী অর্থবছরে নতুন করে ৩০৯ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, ৪৮৪ কিলোমিটার নদ-নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং ডুবোচর অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধার কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একটি করে নদী বা জলাশয় সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার অধীনে ধলেশ্বরী, লৌহজং, আলাইকুড়ি, মগড়া, সালতা, সুতাং, বাঁকখালী ও বারনই নদীর পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। এই সংকট সামাল দিতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে, যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ (Green Jobs) সৃষ্টি হবে।” এই লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগান, ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান এবং ৪ হাজার হেক্টর উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বাগানে বিপুল পরিমাণ নতুন চারা রোপণ করা হবে।

পাশাপাশি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের নিজ বাড়ির আঙিনায় ১ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়াও জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে উপকূলীয় সুন্দরবন ও ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে আন্তর্জাতিক ‘কার্বন ট্রেডিং’ কার্যক্রমের আওতায় এনে বৈশ্বিক রাজস্ব আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা হচ্ছে।

কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ ইতিমধ্যে একনেক (ECNEC) কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত করেন। আগামী সাত বছরে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে এবং ৪টি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা এই স্থায়ী সেচ ও পানি সুবিধা পাবে। একই সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের খরা ও সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বাজেট বক্তৃতায় পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সামগ্রিক এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সচল রাখতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের জন্য নতুন করে আরও ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দের আইনি প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন