নৌপথ উন্নয়ন ও বন্দর আধুনিকায়নে জোর, নির্মাণ হবে বে-টার্মিনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নৌপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিকায়ন এবং একটি অত্যন্ত ব্যয়-সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর বৈশ্বিক বাণিজ্যের চাপ সামলাতে বহুল প্রতীক্ষিত ‘চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল’, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এবং লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সার্ক সামুদ্রিক বাণিজ্য, বন্দর লজিস্টিকস ও ব্লু-ইকোনমি খতিয়ান’ এবং ‘বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক ঋণ উইং’-এর বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে নৌপথ ও বন্দর আধুনিকায়নের এই মেগা রূপরেখার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হলো।
আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের নৌপরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, “নৌপরিবহন খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত নৌপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ড্রেজিং কার্যক্রমের ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সার্বিক দক্ষতা বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি সংসদকে অবহিত করেন, দেশের প্রথম ও একমাত্র মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর (Matarbari Deep Sea Port) বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট (Transshipment) সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, জেটি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রাখার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের নৌ-রুটগুলোর নাব্যতা ধরে রাখতে এবং সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও খনন কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের লঞ্চঘাট ও নদীবন্দরগুলোকে আধুনিক গণপরিবহন বান্ধব করতে উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে, যা দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত এই বিশাল জাতীয় বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎসের ওপর সুষমভাবে নির্ভর করার পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুদান খাত থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ হিসেবে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য সরকারি খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজারকারি ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন অর্থবছরে দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট সামষ্টিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নিয়মানুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের ঠিক আগে আজ দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভায় বাজেটটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি স্বাক্ষর প্রদান করেন।
জান্নাত সকালবেলা
|