৩০ আঙুলের সেই বিরল নবজাতকের মৃত্যু
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুই হাত ও দুই পায়ে মোট ৩০টি আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়া সেই অলৌকিক ও বিরল নবজাতকটি মারা গেছে। জন্মগতভাবে শিশুটির মুখে কোনো জিহ্বাও ছিল না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার বড় মাছুয়া ইউনিয়নের ভোলমারা গ্রামের নিজ বাড়িতে শিশুটি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মনির খান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে মঠবাড়িয়ার ড্রিম অ্যান্ড হেলথ কেয়ার হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই অলৌকিক এই নবজাতককে একনজর দেখতে হাসপাতাল ও তার নিজ বাড়িতে স্বজনসহ শত শত কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সুস্থ শিশুর মতো ২০টি নয়, শিশুটির দুই হাতে ১৬টি এবং দুই পায়ে ১৪টি মিলিয়ে মোট ৩০টি পুর্ণাঙ্গ আঙুল ছিল। শিশুটির বাবা ইসমাইল পালোহন উপজেলার ভোলমারা গ্রামের একজন সাধারণ দিনমজুর। জেসমিন আক্তারের কোলজুড়ে আসা এটি পঞ্চম সন্তান। পরিবারের অন্য চারটি সন্তান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলেও এই নবজাতকটির ব্যতিক্রমী শারীরিক গঠন দেখে হতবাক ও স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিলেন স্বজনরা। তবে মা জেসমিন আক্তার অন্য সন্তানদের মতোই পরম মমতায় এই বিশেষ শিশুটিকে বুকে টেনে নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন; কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
এ ব্যাপারে নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “একটি শিশুর স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে জন্ম নেওয়ার এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘পলিড্যাকটাইলি’ (Polydactyly) বা পলিড্যাকটিলিজম বলা হয়। সাধারণত জিনগত ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকে। তবে হাত-পায়ের অতিরিক্ত আঙুলের চেয়েও বড় সমস্যা ছিল শিশুটির মুখে কোনো জিহ্বা ছিল না। এটি অত্যন্ত বিরল ও জটিল একটি জন্মগত ত্রুটি (Congenital anomaly), যার কারণে শিশুটির শ্বাস-প্রশ্বাস বা পুষ্টি গ্রহণে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।”
শিশুটির আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে পরিবার এবং স্থানীয় ভোলমারা গ্রামজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এআইএল/সকালবেলা
|