নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ছাগল ও কুকুরকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা-মা ও ভাইও মারধরের শিকার হয়েছেন। আহত গৃহবধূ বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, গত বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আশা আক্তার (২১) উপজেলার সুয়াইর গ্রামের সালমান শাহর স্ত্রী এবং তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া (৪৫) একই গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে জানা গেছে, ঘটনার দিন আশার ভাইয়ের একটি কুকুর অভিযুক্ত ফেরদৌসের ছাগলের পাশে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার লোকজন আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। জুয়েলকে রক্ষা করতে গেলে তাঁদের বাবা দিলখুশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা বোন আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফেরদৌস মিয়া সরাসরি আশার পেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তক্ষরণে ভুগতে থাকেন।
রক্তক্ষরণ শুরু হলে স্বজনরা আশাকে দ্রুত মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, "আল্ট্রাসোনোগ্রাম পরীক্ষায় আশা আক্তারের গর্ভ নষ্টের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি এখনো হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।"
ভুক্তভোগী আশা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার ভাইকে মারধর করা হচ্ছিল। বাধা দিতে গেলে ফেরদৌস মিয়া আমার পেটে লাথি মারেন। এরপর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারি, আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।"
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাবা দিলখুশ মিয়া বাদী হয়ে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগের পর পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করলেও কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের তদবিরে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। আশার স্বামী সালমান শাহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়াকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
এআইএল/সকালবেলা