হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একটি অসহায় পরিবারের ওপর বর্বর হামলা, মারপিট ও বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের বালার দিঘী চাপরা পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় নারীসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, বালার দিঘী চাপরা পাড়া এলাকার মুসলিম ডাক্তারের ছেলে আমিনুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মোফাজ্জল হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে বুধবার গভীর রাতে আমিনুল ইসলামের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গভীর রাতে মোফাজ্জল হোসেন, তার স্ত্রী আয়শা বেগম, মেয়ে মোহনা আক্তার ও জামাই ফেরদৌস মিয়া সংঘবদ্ধ ও সশস্ত্র হয়ে আমিনুল ইসলামের বাড়িতে চড়াও হয়। তারা বাড়িতে প্রবেশ করেই পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বসতবাড়ির টাটী বেড়া এবং ঘরের টিনের চাল কুড়াল ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।
আহত আমিনুল ইসলামের স্ত্রী সুমনা আক্তার ফেন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বুধবার মাঝরাতে হঠাৎ করেই তারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘরের টিন ও বেড়া ভাঙচুর করে পরিবারের সবাইকে মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীরা মামলা না করার জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিচ্ছে।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের শেষ করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই হামলার ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম জানান, "ঘটনাটি শুনেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এআইএল/সকালবেলা