বিনোদন ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল আজহার বিশেষ আমেজে দেশের একক ও মাল্টিপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহগুলোতে যখন দাপটের সাথে একচ্ছত্র রাজত্ব ও ব্যবসা করছে ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খানের নতুন অ্যাকশন-রোমান্টিক সিনেমা ‘রকস্টার’, ঠিক সেই মহা জোয়ারের মাঝেই দর্শকদের জন্য আরও এক জোড়া নতুন সুখবর নিয়ে এলেন এই ঢাকাই কিং। সান মোশন পিকচার্সের (Sun Motion Pictures) বিশ্বস্ত ব্যানারে খুব শিগগিরই দেশের রূপালি পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত ও হাই-ভোল্টেজ সিনেমা ‘সোলজার’ (Soldier)।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টা ৪৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘ঢালিউড ধামাকা, শাকিব খান চলচ্চিত্র উৎসব ও মেগাস্টার ক্যারিয়ার ট্র্যাকিং উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে শাকিব খানের এই নতুন প্রজেক্ট ও দীর্ঘ ক্যারিয়ারের স্মৃতিকথার খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
ঈদের ছবি ‘রকস্টার’-এর একটি জমকালো ও বিশেষ প্রদর্শনী (Special Screening) শেষে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নিজেই এই নতুন প্রজেক্টের ঘোষণা দেন এবং তাঁর দীর্ঘ রূপালি পথচলা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শাকিব। তথ্যমতে, ‘সোলজার’ মূলত ‘রকস্টার’ সিনেমার আগেই শুটিং শুরু হওয়া একটি প্রজেক্ট। এর সিংহভাগ শুটিং ও দৃশ্যধারণের কাজ আগেই শেষ হলেও অভ্যন্তরীণ নানা টেকনিক্যাল কারণে এতদিন ছবিটির মুক্তি আটকে ছিল। তবে বড় সুখবর হলো, ছবিটির কাজ এখন একেবারে শেষ ও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সামনে নতুন এই প্রজেক্টের সর্বশেষ অগ্রগতি ও আপডেট দিয়ে শাকিব খান অত্যন্ত উৎফুল্ল কণ্ঠে বলেন, “আমার সমস্ত ভক্ত ও দর্শকদের জন্য আনন্দের সাথে জানাতে চাই যে, এই চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের মধ্যেই আমার আরেকটি বিগ প্রজেক্টের সিনেমা রিলিজ হতে যাচ্ছে। সেটিও সান মোশন পিকচার্সের দুর্দান্ত অ্যারেঞ্জমেন্টের ছবি ‘সোলজার’। আর মাত্র কয়েকদিনের শুটিং বাকি আছে, যার জন্য আমরা খুব দ্রুতই এর শেষ ক্যামেরা ক্লোজ করব। বলা যায়, ছবির চূড়ান্ত লটের জন্য আমি আবার নতুন করে সোলজার হচ্ছি। সিনেমার বাকি অংশের শুটিং ও কিছু গানের দৃশ্যধারণ সম্পূর্ণভাবে দেশের বাইরে বা আন্তর্জাতিক কন্ডিশনে সম্পন্ন করা হবে। খুব শিগগিরই, এই বছরেই ‘সোলজার’ নামের একটি চমৎকার, সুন্দর ও আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা মানুষ প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পাবেন।”
কথায় কথায় নিজের রূপালি জগতের রঙিন, বৈচিত্র্যময় ও দীর্ঘ ২৭ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা নিয়ে হঠাৎ করেই কিছুটা আবেগপ্রবণ ও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন ঢালিউডের এই শীর্ষ নায়ক। ক্যারিয়ারের শুরুটা মাত্র তিন মাসের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিসেবে হলেও, কীভাবে যে দেখতে দেখতে জীবনের প্রায় তিন দশক এই রূপালি ক্যামেরার সামনে কেটে গেল, তা ভেবে আজ নিজেই অবাক হন এই গ্লোবাল তারকা।
নিজের জীবনের ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শাকিব বলেন, “আমি এর আগেও বিভিন্ন ইন্টারভিউতে বলেছি, আজ আপনাদের সামনেও বলছি—যখন আমার রূপালি জগতের এই দীর্ঘ ক্যারিয়ার শুরু করি, তখন আমি স্রেফ ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের একজন সাধারণ স্টুডেন্ট ছিলাম। সিনেমার দুনিয়া কেমন তা দেখতে মাত্র তিন মাসের একটি সংক্ষিপ্ত মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রেখেছিলাম। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং কাজের প্রতি সততার মধ্য দিয়ে সময়গুলো ডানা মেলে এমনভাবে পার হয়ে গেছে যে, আমার জীবনের ২৭টি বছর কখন ও কীভাবে পার হয়ে গেল তা আমি নিজেও টের পাইনি। পেছনের এই জার্নিটা আসলে অনেক সুন্দর ও রোমাঞ্চকর ছিল।”
বাংলা চলচ্চিত্রের ক্রান্তিকাল এবং বর্তমান ঘুরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে শাকিব খান আরও যোগ করেন, “তবে অনেক চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতা যে শুধু আমাদের সিনেমার মানুষরা একাকী পার করেছে তা কিন্তু না; বিভিন্ন সময় আমাদের দেশের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্রাইসিস থাকে, যার কারণে আমাদের পুরো দেশ সামগ্রিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে যায়। আর সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সিনেমা শিল্পকে বাঁচাতে আমরা সবাই পরিচালক, প্রযোজক ও টেকনিশিয়ানরা একত্রিত হয়ে, যার যার ব্যক্তিগত সক্ষমতা দিয়ে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি ফিল্মকে সামনে এগিয়ে নিতে।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে শাকিবের কণ্ঠে ছিল বাংলা সিনেমাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার এক দৃঢ় প্রত্যয়। তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক সুরে বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন আমাদের বাংলা সিনেমা সামনে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়। যে বৈশ্বিক লক্ষ্য নিয়ে আমরা সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি, সেখানে আপনারা সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরাও সবাই সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সিনেমাকে খুব পজিটিভলি প্রমোট করছেন। ফিল্মের চারপাশের সমস্ত নেগেটিভিটি যত আছে, সেই সব নেগেটিভিটিকে শক্তভাবে পাশ কাটিয়ে আমরা সব পজিটিভ ও ভালো মনের মানুষরা একসাথে সামনে এগিয়ে যাব। দর্শকদের আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দেব। ইনশাল্লাহ, আমাদের সিনেমা দিয়ে আমরা একদিন আমাদের প্রিয় দেশের জন্য অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক গৌরব ও সম্মান বয়ে নিয়ে আসব।”
জান্নাত সকালবেলা