পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০১:০৪ অপরাহ্ণ
পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস উদ্ধার, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীর অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসটি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। ফেরিতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে নিয়ম অনুযায়ী বাসের সমস্ত সাধারণ যাত্রীকে পন্টুনে নামিয়ে দেওয়ায় এবং বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালক ও সহকারীকে (হেলপার) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করায় এই যাত্রায় নিশ্চিত এক বড় ধরনের ও ভয়াবহ প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে সবাই।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সারাদেশ’ ও ‘নৌ-দুর্ঘটনা সতর্কীকরণ, সফল উদ্ধার অভিযান ও স্থানীয় প্রশাসন মনিটরিং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই রোমাঞ্চকর উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ চিত্র বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিআইডব্লিউটিসির উদ্ধারকারী বিশেষ জাহাজ ‘হামজা’ সকাল থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং দীর্ঘ চেষ্টা শেষে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বাসটি টেনে নদীর ওপরে তুলতে সক্ষম হয়।

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ওই এসবি পরিবহন বাসের সাধারণ যাত্রী হীরক আহমেদ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিজের গা শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি আমার স্ত্রী এবং ছোট বাচ্চাসহ আমাদের পরিবারের মোট ৪ জন সদস্য কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে এই এসবি পরিবহনের নৈশকোচে উঠেছিলাম। বাসের ভেতরে আমাদের মতো মোট ৩৮ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। বাসটি সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়া কাউন্টার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমাদের বাসটি নদী পার হওয়ার জন্য দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের ওপর এসে পৌঁছায়। তখন ফেরির নিয়ম অনুযায়ী ড্রাইভার এবং হেলপার বাদে আমাদের সমস্ত যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পন্টুনে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।”

যাত্রী হীরক আহমেদ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আরও যোগ করেন, “আমরা বাস থেকে নামার ঠিক কয়েক মিনিটের মাথায় বাসটি যখন খালি অবস্থায় ফেরির ভেতর ওঠার জন্য পন্টুন দিয়ে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চোখের পলকে বিশাল বাসটি পন্টুন থেকে ছিটকে তীব্র বেগে ছলাৎ করে পদ্মা নদীতে পড়ে পুরোপুরি তলিয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের অল্পের জন্য বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।”

বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (BIWTC) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (AGM) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা পাটুরিয়া থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’কে জরুরি তলব করি। হামজা দ্রুত এসে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে নিখুঁত চেইনের সাহায্যে বাসটিকে টেনে তুলতে সক্ষম হয়। বাসের ভেতরে কোনো যাত্রী না থাকায় বড় বাঁচা গেছে। বাসের চালক ও হেলপার পানির নিচে আটকা পড়লেও স্থানীয় নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের দুজনকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে। ঘাট এলাকায় কোনো যাত্রী নিখোঁজের সংবাদ নেই।”

সার্বিক উদ্ধার অভিযান সরাসরি তদারকি শেষে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক (DC) আফরোজা পারভীন অত্যন্ত স্বস্তির সুরে গণমাধ্যমকে বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ শুরু করে। আল্লাহর অশেষ রহমতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা সফলভাবে বাসটিকে নদীর তলদেশ থেকে টেনে ওপরে তুলেছে। বাসের ফিটনেস এবং চালকের লাইসেন্স বা অসতর্কতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হাইওয়ে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রয়েছে।”

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন