ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ণ
ইউরোপের মাটিতে প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের
খেলা প্রতিবেদক : বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আজ রচিত হতে যাচ্ছে এক সম্পূর্ণ নতুন, অভূতপূর্ব ও গৌরবময় স্বর্ণালী অধ্যায়। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মূলত দক্ষিণ এশিয়া (সাফ) এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর চেনা গণ্ডির মধ্যে ফুটবল খেললেও, এই প্রথমবার ইউরোপের পবিত্র মাটিতে কোনো ইউরোপিয়ান শক্তিশালী দেশের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ইউরোপের দেশ সান মারিনোর বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবলের এক নতুন স্বপ্নের পথচলা।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘খেলা’ ও ‘আন্তর্জাতিক ফুটবল, জাতীয় দল প্রীতি ম্যাচ ও বৈশ্বিক ফুটবল কৌশল উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে এই রোমাঞ্চকর ও ঐতিহাসিক ম্যাচের আদ্যোপান্ত বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

আজ শুক্রবার সান মারিনোর ঘরের মাঠ তথা বিখ্যাত সেরাভালে স্টেডিয়ামে (Serravalle Stadium) ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ও বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল ‘টি স্পোর্টস’ (T Sports) সরাসরি সম্প্রচার করবে।

ফিফা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের খতিয়ান বিবেচনায় নিলে এই মুহূর্তে দুই দলের ব্যবধান ঠিক ৩০। এবারের প্রেক্ষাপটে এবং খাতাকলমের হিসাবে সান মারিনোর চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব ফুটবলের র‍্যাঙ্কিংয়ে সান মারিনোর বর্তমান অবস্থান ২১১তম (সর্বশেষ)। অন্যদিকে বাংলাদেশ দল অবস্থান করছে ১৮১তম স্থানে। অতীতে যেকোনো শক্তিশালী দেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে যেভাবে র‍্যাঙ্কিংয়ের সমীকরণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল, এবারও ফুটবল মহলে তার ব্যতিক্রম ঘটছে না।

তবে অতীতে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের কাছে র‍্যাঙ্কিং যেমন স্রেফ একটা কাগুজে সংখ্যা হিসেবে গণ্য হয়েছিল, এবার এগিয়ে থাকা ম্যাচেও র‍্যাঙ্কিংকে স্রেফ একটি সংখ্যা হিসেবেই মনে করছেন জামাল ভূঁইয়া, বিশ্বনাথ ঘোষরা। র‍্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে তারা অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত ও রোমাঞ্চিত ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো নিজেদের ফুটবল দক্ষতা প্রদর্শন করার সুযোগ পাওয়ায়।

সান মারিনো ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের পাতায় শুধুই একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি হতে যাচ্ছে এক নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন বিদেশি কোচ এবং বিশ্ব দরবারে দেশের ফুটবলকে চেনার এক নতুন সুযোগ। স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার অধীনে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় খেলার পর, বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিয়েছেন সম্পূর্ণ নতুন আমেরিকান কোচ থমাস ডুলি (Thomas Dooley)।

কোচ ডুলির অধীনে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামার আগে মিতুল মারমা ও বিশ্বনাথ ঘোষরা মানসিকভাবে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী (Hamza Choudhury) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লিগে খেলা শমিত সোমের (Shamit Shome) মতো বৈশ্বিক তারকাদের লাল-সবুজ জার্সিতে উপস্থিতি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে এক নজিরবিহীন রোমাঞ্চ ও উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে।

ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার খেলার রোমাঞ্চ প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ সান মারিনো থেকে জানান, “আমাদের জন্য এটা সম্পূর্ণ নতুন এবং দুর্দান্ত একটা অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। আমরা ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সবসময় সাফ আর এশিয়ার আশপাশের দেশগুলোর বিপক্ষেই বেশি খেলে অভ্যস্ত। এবার ইউরোপের একটি দেশের বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে ম্যাচ খেলাটা আমাদের ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের জন্য অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট।”

সান মারিনো দল সম্পর্কে বিশ্বনাথ আরও যোগ করেন, “এই দলটি সম্পর্কে আমাদের আগে খুব একটা গভীর ধারণা বা ফুটেজ ছিল না। তবে এখানে আসার পর আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি। ছোট্ট দেশ হলেও সান মারিনো ইউরোপীয় অঞ্চলের অংশ হওয়ায় তারা সবসময় বসনিয়া, অস্ট্রিয়া বা ইতালির মতো বিশ্বমানের এবং বিশ্বকাপ খেলা দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত ম্যাচ খেলে থাকে। এই কারণেই মূলত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হেরে তাদের ফিফা র‍্যাঙ্কিংটা তলানির দিকে দেখাচ্ছে। তবে খাতা-কলমের হিসাব দিয়ে মাঠের খেলা বিচার করলে আমাদের ভুল হবে, দেখতে হবে ফিজিক্যালি ওরা মাঠে কেমন করে এবং ওদের প্রেসিং কেমন। ওদের টিম যেমনই হোক, আশা করি আমরা সেরাটা দিয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব।”

বাংলাদেশ দলের নতুন হাইপ্রোফাইল কোচ থমাস ডুলির খেলার স্টাইল ও ফিলোসফি পূর্ববর্তী কোচের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি মূলত মাঠে বল পজিশন বা নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখা এবং কোনো জটিলতা ছাড়া অত্যন্ত নিখুঁত ‘সিম্পল ফুটবল’ খেলানোর কৌশল পছন্দ করেন। অল্প কয়েক দিনের সংক্ষিপ্ত অনুশীলনেই জামাল ভূঁইয়ারা নতুন কোচের এই আধুনিক পাসিং ফুটবল কৌশল নিজেদের রক্তে রপ্ত করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের সহকারী কোচ ও সাবেক তারকা ফুটবলার হাসান আল মামুন।

হাসান আল মামুন আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “আমাদের প্লেয়াররা নতুন কোচের খেলার স্টাইল ও ফর্মেশনের সাথে খুব দ্রুত ও চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে। কোচ ডুলি শর্ট পাস অ্যাকুরেসি এবং দলগতভাবে একসাথে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে ভালোবাসেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেকোনো বড় দলের সাথে টেক্কা দিতে হলে কোচের ফিলোসফির সাথে অ্যাডপ্ট করাটা সবচেয়ে জরুরি এবং আমাদের ছেলেরা তা মাঠের অনুশীলনে শতভাগ করে দেখিয়েছে। আশা করছি আজ রাতে দেশের কোটি ফুটবল ভক্তকে আমরা একটি দৃষ্টিনন্দন ও ঐতিহাসিক জয় উপহার দিতে পারব।”

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন