নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেশি সুসংহত ও কৌশলগত স্তরে উন্নীত করার লক্ষ্যে এক বড় ঘোষণা এসেছে। বাংলাদেশের উদীয়মান প্রতিরক্ষা খাতে আঙ্কারার উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সহযোগিতা আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান (Hakan Fidan)।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) দুপুর ১টা ৯ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘জাতীয়’ ও ‘আন্তর্জাতিক কূটনীতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা কৌশল উইং’ বিভাগের বিশেষ যৌথ বুলেটিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের খতিয়ান বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা সফররত তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় (Bilateral) বৈঠকে মিলিত হন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথভাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “তুরস্ক ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি অত্যন্ত গভীর ও বিশ্বাসের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়ন তথা ‘ফোর্সেস গোল’ অর্জনে সার্বিক সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
হাকান ফিদান আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্পে (Defense Industry) বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বিকাশের জন্য খুব দ্রুত কিছু বাস্তবসম্মত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তুরস্কের আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যৌথভাবে উৎপাদন বা স্থানান্তরের বিষয়েও আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে তুরস্কের কাছ থেকে বাংলাদেশ বেশ কিছু আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাডার ব্যবস্থা আমদানি করেছে। আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের সম্পর্ক বাণিজ্য থেকে অংশীদারিত্বের (Partnership) দিকে মোড় নেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তুরস্কের এই আন্তরিক ও সময়োপযোগী প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “তুরস্ক বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু। প্রতিরক্ষা শিল্পের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে একে অপরকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়েও আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।” তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঢাকা সফর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
জান্নাত সকালবেলা