তাহসিন মেহেরাব শাওন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার): কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের লরাবাগ এলাকায় মাত্র ১ হাজার টাকার পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে হামিদ (১৯) নামে এক মোবাইল মেকানিক নিহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত হামিদ জালালাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে। তিনি ঈদগাঁও বাজারে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন। অপরদিকে অভিযুক্ত শামীম (১৮) একই এলাকার মোহাম্মদ সিদ্দিক ও ফাতেমার ছেলে।
মোবাইল মেরামতের বাবদ শামীমের কাছে হামিদের ১ হাজার টাকা পাওনা ছিল। আজ সকালে লরাবাগ বাজারে যাওয়ার পথে দুজনের দেখা হলে হামিদ তাঁর পাওনা টাকা দাবি করেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শামীমের মা ও বোন ঘটনাস্থলে এসে জড়িয়ে পড়েন এবং হামিদকে চেপে ধরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শামীম তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ধারালো ছুরি বের করে হামিদের পেটে উপর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়।
জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেন, “মাত্র ১ হাজার টাকার পাওনা নিয়ে একজন তরুণের প্রাণ চলে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্ত শামীমকে নিরাপদে ঈদগাঁও থানায় পৌঁছে দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ঈদগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া উত্তেজিত জনতার ক্ষোভ থেকে সুরক্ষার জন্য নিরাপত্তার স্বার্থে শামীমের মা ও বোনকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এআইএল/সকালবেলা