মেহেদী হাসান মারুফ, সাতক্ষীরা: উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তরুণী শারমিন আক্তার (২৮) চাকরির পরীক্ষায় শ্রুতি লেখক সংক্রান্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বারবার এই এক জায়গায় আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এর স্থায়ী প্রতিকার ও কর্মসংস্থানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। শারমিন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন প্রত্যন্ত পশ্চিম কৈখালী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছোট মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৮ বছর বয়সে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় শারমিন আক্তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তাঁর পিতা নিজের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বিক্রি করে চিকিৎসা করালেও মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে পারেননি; উল্টো সেই শোকে নিজে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর শারমিনের কলেজপড়ুয়া বড় ভাই টিউশনি ও কৃষিকাজ করে সংসারের হাল ধরেন। চরম অভাবের মধ্যেও ভাইয়ের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় শারমিন স্থানীয় কৈখালী এস আর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকার বেগম বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং সর্বশেষ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৭-১৮ সেশনে ভর্তি হয়ে ২০২৪ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
শারমিন আক্তার জানান, মাস্টার্স শেষ করে অসুস্থ পিতা ও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চাকরির আবেদন শুরু করেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরীক্ষা কেন্দ্রে শ্রুতি লেখক নিয়ে তাঁকে মারাত্মক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, “আমার অনুমোদিত শ্রুতি লেখককে বাদ দিয়ে অনেক সময় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দেওয়া শ্রুতি লেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তারা সঠিকভাবে প্রশ্ন পড়ে আমাকে শোনাতে পারে না, আবার আমার বলে দেওয়া উত্তরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখে শেষ করতে পারে না। ফলে এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকা আমার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ছে।”
সর্বশেষ গত ১৬ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকার ডেমরার মাতুয়াইলস্থ সৈয়দ শামসুল হক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের শ্রুতি লেখকসহ উপস্থিত হন শারমিন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা তাঁকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেন। নাম-পরিচয় জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান এবং মনগড়া নিয়ম তুলে ধরেন, যা অন্য কোনো প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয় না। একপর্যায়ে পরীক্ষা না দিয়েই কেন্দ্র থেকে চলে আসতে বাধ্য হন শারমিন।
এই আমলাতান্ত্রিক ও কাঠামোগত হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়ে শারমিন বলেন, “আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে আমার মতো আর কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং আমি নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারি।”
এআইএল/সকালবেলা