সাবমেরিন ক্যাবলে আলোকিত হচ্ছে মনপুরা দ্বীপ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সাবমেরিন ক্যাবলে আলোকিত হচ্ছে মনপুরা দ্বীপ

সাইফুল ইসলাম: জেলার মূল ভূ-খণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন দ্বীপ উপকূলীয় জনপদ মনপুরায় এবার আলো জ্বলবে সাব মেরিন ক্যাবলে যুক্ত বিদ্যুতে। জাতীয় গ্রীডের সাথে যুক্ত হবে লক্ষাধিক মানুষের বিচরণভূমি শতবছরের উপকূলীয় দ্বীপ মনপুরা। যুগের পর যুগ বিশাল জলরাশির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা আলোহীন পলিমাটির এ জনপদের মানুষগুলোর নিদারুণ কষ্টের কথা চিন্তা করে মানবতার আলো ছড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন সরকার প্রধান তারেক রহমান। ওই জনপদের অবহেলিত মানুষের জন্য এটি ছিলো সরকার প্রধানের নির্বাচনীশ্রুতির এক অনন্য উপহার। জাতীয় নির্বাচন পূর্ব চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারী বরিশালে নির্বাচনী জনসমাবেশে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তখন তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেশের উপকূলীয় দ্বীপ মনপুরাকে একটি পর্যটন নগরীতে পরিণত করতে যত প্রকার উন্নয়ন দরকার সবই তিনি করবেন।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি দ্বীপ মনপুরা হবে দেশের অপার সম্ভাবনার অনন্য এক অপরূপ পর্যটন ক্ষেত্র। চরফ্যাশন-মনপুরা অর্থাৎ ভোলা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নয়নের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও দাবির প্রেক্ষিতে তারেক রহমান মনপুরা দ্বীপটিতে ব্যাপক উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। অবশেষে ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যেই দ্বীপটিতে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত পাকাপোক্ত হয়।

ভোলার মূল ভূ-খণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ও শত বছরের প্রাচীন দ্বীপ মনপুরায় নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ পৌঁছাচ্ছে।

শক্তিশালী বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে নয়নাভিরাম মনপুরাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

হয়। কাজটির টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে বিদ্যুৎ সংযোগকর্ম তড়িৎ গতিতে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ সম্পন্ন হলেই তারেক রহমান প্রতিশ্রুতির আলো জ্বলবে অন্ধকারাচ্ছন্ন দ্বীপ মনপুরায়।

তথ্যমতে, সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের টেন্ডার আহ্বান করেছে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এটি হতে পারে বিএনপি সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ‘মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

দরপত্রটি ‘ওয়ান স্টেজ টু এনভেলাপ টেন্ডারিং মেথড (ওএসটিইটিএম)’ পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে এবং প্রকল্পের অর্থায়ন করা হবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী-এর নিজস্ব তহবিল থেকে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগ্রহী ঠিকাদারদের গত ১০ বছরের মধ্যে কমপক্ষে দু’টি অনুরূপ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ৩৩ কেভি বা তার অধিক ক্ষমতার সাবমেরিন কেবল স্থাপন, পরীক্ষণ ও চালুকরণের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের অনুরূপ ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে বিদেশে অন্তত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অগ্রাধিকার পাবে।

এ ছাড়া, সাবমেরিন কেবল স্থাপনে ব্যবহৃত জাহাজের মডেল, ধরন ও সক্ষমতার প্রমাণপত্র জমা দেয়ার শর্ত রাখা হয়েছে। আগামী ২৫ জুন ২০২৬ দরপত্র জমা দেয়া যাবে এবং একই দিন বিকেল দরপত্র খোলা হবে। দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টাকা।

সাবমেরিন ক্যাবলে মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুতের এ পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পার্শ্বে থেকে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নয়ন। তিনি বাসস’কে বলেন, অবহেলিত মনপুরাবাসীর দুঃখ-কষ্ট আর বঞ্চনাময় জীবনযাত্রার কথা জানতে পেরেছেন সরকার প্রধান। সে কারণেই দেশনায়ক তারেক রহমানের সদিচ্ছার ফসল হিসেবে লাখো লোকালয়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রাচীন দ্বীপ জনপদ মনপুরাবাসী অবশেষে আলোকিত হচ্ছেন।

তথ্যমতে, একসময়কার ওলন্দাজ, পর্তুগীজ আর মগদের আবাসস্থলখ্যাত মনপুরা দ্বীপটি ছিলো সর্বদাই অন্ধকারাচ্ছন্ন। দুর্ভোগ আর দুর্যোগপ্রবণ এক অবহেলিত জনপদের নাম মনপুরা। যখন বিশ্বময় সভ্যতার বিকাশের প্রসার ঘটেছে, সে সময়ও দ্বীপের মানুষদের থাকতে হচ্ছে- অন্ধকারময় প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত এক গুমোট পরিবেশে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরা অবশেষে যুক্ত হতে যাচ্ছে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে। বছরের পর বছর বিদ্যুৎ সংকটে থাকা এ উপকূলের দ্বীপে হাতেগোনা গুটি কয়েক মানুষ ডিজেল চালিত একটি জেনারেটর দিয়ে দিনে-রাতে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পেত না। এবার সেই অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়ে আলোকিত হতে যাচ্ছে দ্বীপ জনপদের বসতিপূর্ণ মনপুরা। সেখানকার বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী কে.এম. ফরিদুল ইসলাম বাসস’কে জানান, জাতীয় গ্রিডের সাথে সংযুক্ত হলে দ্বীপ মনপুরার দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলার রামনেওয়াজ ও বাংলাবাজারে দু’টি বেসরকারি সোলার প্লান্ট থেকে প্রতিদিন ৫শ’ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। তবে এর মধ্যে ১ হাজার ১শ’ ৯৯ জন গ্রাহককে ইউনিট প্রতি ৩৫ টাকা হারে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

মন্তব্য করুন