মা হলেই লোকে মোটা বলে : কিয়ারা

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ণ
মা হলেই লোকে মোটা বলে : কিয়ারা

বিনোদন ডেস্ক : বর্তমান গ্ল্যামার দুনিয়ায় বলিউডের অন্যতম শীর্ষ ও জনপ্রিয় মেগাস্টার অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। খুব বেশিদিন হয়নি, তাঁর কোল আলো করে এসেছে ফুটফুটে কন্যাসন্তান। বর্তমানে বাস্তব জীবনের অন্যতম সেরা ও মধুরতম সময় উপভোগ করছেন তিনি। তবে মাতৃত্বের এই অসম্ভব সুন্দর ও পবিত্র সফরের পাশাপাশি একজন কর্মজীবী নারীকে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সমাজের কেমন কুৎসিত মানসিকতা, কড়া সমালোচনা ও অদৃশ্য চাপের মুখোমুখি হতে হয়, তা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অত্যন্ত খোলামেলা ও সাহসী মন্তব্য করেছেন এই বি-টাউন তারকা।

আজ সোমবার (১ জুন) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বিনোদন’ ও ‘বলিউড গ্ল্যামার’ বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে কিয়ারা আদভানির এই সাহসী সাক্ষাৎকার ও সমাজের বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

সম্প্রতি এক জমকালো বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে তারকাদের গর্ভাবস্থা এবং সন্তান প্রসবের ঠিক পরপরই নারীর শরীর ও কাজে ফেরা নিয়ে সমাজের কিছু মানুষের চেনা দ্বিচারিতা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

বাস্তব জীবনের মাতৃত্ব তাঁর নিজের চিন্তা-ভাবনায় কী কী বড় পরিবর্তন এনেছে, তা অনুভূতির সাথে জানাতে গিয়ে কিয়ারা আদভানি বলেন, “এই পবিত্র অভিজ্ঞতা আমার ভেতরের প্রকৃত সত্ত্বাকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আমার কাছে এই চমৎকার অভিজ্ঞতা সব দিক থেকেই ভীষণ সমৃদ্ধ ও ইতিবাচক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এখন যে পরিচালকেরা আগামী দিনে আমার সঙ্গে নতুন প্রজেক্টে কাজ করবেন, তারা ক্যামেরার সামনে আমার অভিনয়ের সেরা ম্যাচিউরড রূপটাই পাবেন। মাতৃত্বের এই চমৎকার সফর আমার জীবনের, আমার নিজের এবং সামগ্রিকভাবে এই পৃথিবীর প্রতি আমার গভীর বোঝাপড়ার একটা সম্পূর্ণ নতুন ও সুন্দর দিক উন্মোচন করেছে।”

তবে একই সাথে নারীদের পুনরায় চেনা কাজে ফেরা এবং মাতৃত্বকালীন স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সমাজের একাংশের নেতিবাচক ও বিষাক্ত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কিয়ারা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটি আমাদের চারপাশের সমাজের একটি নির্মম ও তেতো সত্য যে— সমাজ খুব দ্রুত একজন নতুন মায়ের কাজে ফেরা বা ক্যারিয়ার নিয়ে নানা ধরণের আজেবাজে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। সবচেয়ে মজার ও অদ্ভুত বিষয় হলো, আপনি যখন গর্ভবতী (Pregnant) থাকবেন, তখন চারপাশের সবাই খুব আহ্লাদ করে বলবে, ‘হে ঈশ্বর, তোমার গর্ভাবস্থার মুখ কী দারুণ ঝলমল করছে, তোমাকে কত গ্ল্যামারাস ও সুন্দর লাগছে!’ আর ঠিক যে মুহূর্তে আপনার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে যাবে, অমনি চারপাশের মানুষের সুর ম্যাজিকের মতো বদলে যাবে। তখন চারপাশ থেকে খুব সহজেই বডি শেমিং ও মন্তব্য আসবে, ‘এখন তো ওকে অনেক মোটা লাগছে, ও কেমন যেন আনফিট হয়ে গেছে’।”

কিয়ারা আরও যোগ করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আপনাকে সমাজের সবাই মাথায় তুলে ‘দেবী’ বানিয়ে রাখবে, আর সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরের মুহূর্তেই তারা অবাস্তব আশা করবে আপনি যেন কোনো জাদুবলে এক রাতের মধ্যে আবার আগের স্লিম শারীরিক গঠনে ফিরে আসেন এবং জিরো ফিগার নিয়ে চেনা ছন্দে ক্যামেরার সামনে দৌড়াতে শুরু করেন। কিন্তু একটা মেয়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন ও স্পর্শকাতর সময়টা আসে সন্তান প্রসবের ঠিক পর। হরমোনাল ও শারীরিক পরিবর্তনের এই বিশেষ সময়টাতেই মূলত তাঁর সবচেয়ে বেশি মানসিক শক্তি ও চারপাশের মানুষের নিঃশর্ত সমর্থনের প্রয়োজন হয়, যা সমাজ দিতে ব্যর্থ হয়।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ জুলাই বলিউড সেনসেশন কিয়ারা আদভানি এবং তারকা অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা দম্পতির ঘর আলো করে আসে তাদের প্রথম কন্যাসন্তান সারায়াহ (Sarayah)। বর্তমানে প্রথম সন্তানকে সামলানোর পাশাপাশি ভারতের দক্ষিণী সিনেমার কন্নড় সুপারস্টার যশের সঙ্গে তাঁর আগামী বহুল প্রতীক্ষিত বিগ বাজেটের সিনেমা ‘টক্সিক’ (Toxic)-এর মাধ্যমে পুনরায় বড় পর্দায় ফেরার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিয়ারা। বাস্তব জীবনের এই মাতৃত্বকালীন চমৎকার যাত্রা এবং সমাজের তীব্র বডি শেমিংয়ের (Body Shaming) বিরুদ্ধে কিয়ারার এমন সোচ্চার ও সাহসী বক্তব্য ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ নারী ও ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন