পর্যটকদের জন্য বন্ধ হলো সেন্টমার্টিন

প্রকাশ: সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ অপরাহ্ণ
পর্যটকদের জন্য বন্ধ হলো সেন্টমার্টিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার স্বার্থে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত নিয়ম ও ক্যালেন্ডার অনুযায়ী চলতি ওয়ান অব দ্য বেস্ট পর্যটন মৌসুমে সাধারণ পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণ যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি)। আজ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন টেকনাফ নৌপথে সব ধরনের বাণিজ্যিক পর্যটকবাহী লাক্সারি জাহাজ ও স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আবহাওয়াসহ সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী শীতকালীন নতুন পর্যটন মৌসুমে পুনরায় পর্যটকরা এই নয়নকাড়া দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

গত ৩১ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৪ মিনিটে অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘সারাদেশ’ ও ‘পর্যটন’ বিভাগের এক বিশেষ পরিবেশবিষয়ক প্রতিবেদনে সেন্টমার্টিন দ্বীপ বন্ধের সরকারি নির্দেশনা এবং এর পেছনের মূল কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সর্বদক্ষিণের এই নয়নকাড়া দ্বীপটির সামুদ্রিক প্রবাল, কচ্ছপের প্রজনন ক্ষেত্র এবং সামগ্রিক জীব বৈচিত্র্য প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছিল। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিগত ২০২৩ সাল থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে বর্তমান সরকার।

সরকারের সেই বিধিনিষেধ ও নির্ধারিত আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমের সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপন ও ভ্রমণের শেষ সময়সীমা নির্দিষ্ট করা ছিল ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। নির্ধারিত এই সময়ের পর দ্বীপে সব ধরনের বাণিজ্যিক পর্যটন কার্যক্রম ও হোটেল বুকিং সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে, যাতে বছরের বাকি সময়টাতে মানুষের কোলাহলমুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির নিজস্ব উপায়ে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষুণ্ন হওয়া ভারসাম্য পুনরায় ফিরে আসতে পারে।

টেকনাফ ও কক্সবাজারের জাহাজ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের এই পরিবেশবান্ধব নির্দেশনাকে সম্মান জানিয়ে ৩১ জানুয়ারি বিকেলের শেষ ফিরতি জাহাজে করেই দ্বীপে অবস্থান করা শেষ ব্যাচের পর্যটকদের নিরাপদে মূল ভূখণ্ডে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আজ ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী মৌসুমের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো পর্যটককে দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি বা জাহাজের টিকিট দেওয়া হবে না।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেন্টমার্টিনকে মানুষের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি ছিল। এর ফলে দ্বীপের বিপন্ন সামুদ্রিক পরিবেশ ও সৈকতের চেনা রূপ আবার প্রাণ ফিরে পাবে।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন