নাজিয়াত হোসেন, জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় অবস্থিত ‘নিউ ডিজিটাল প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড শোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা ও জনস্বাস্থ্যকে চরম ঝুঁকিতে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে কোনো অভিজ্ঞ বা নিবন্ধিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত নেই। প্রায় চার মাস আগে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়া টেকনোলজিস্ট মেহেদী হাসানের নাম, সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে নিয়মিত বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মেহেদী হাসান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ওই প্রতিষ্ঠানে নেই এবং তাঁর স্বাক্ষর ব্যবহার করা একটি আইনগত অপরাধ, যার বিরুদ্ধে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
অদক্ষ কর্মী দিয়ে নমুনা সংগ্রহ ও ভুল রিপোর্ট প্রদানের ফলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এ বিষয়ে দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশেদ বীন ফয়সাল তানজীর বলেন, “স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন টেকনোলজিস্ট চলে যাওয়ার পরও তার নামে রিপোর্ট তৈরি হওয়া মানে ভুয়া রিপোর্ট ও ডকুমেন্ট জালিয়াতি। রোগী মনে করছেন তিনি অভিজ্ঞ টেকনোলজিস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করিয়েছেন, অথচ বাস্তবে তা হয়নি। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রাইভেট ক্লিনিক নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উবায়দুর রহমান সাহেল জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং সত্যতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হতে পারে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমানও নিয়মবহির্ভূত কাজের জন্য লাইসেন্স বাতিলের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এ.আই.এল/সকালবেলা