আমেরিকান টেক জায়ান্ট অ্যাপল-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে কানাডাভিত্তিক জনপ্রিয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘রেভ’ (Rave)। অ্যাপ স্টোর থেকে তাদের অ্যাপটি অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে কয়েক’শ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ এবং অ্যাপটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
রেভ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দূর থেকে একসঙ্গে ভিডিও দেখতে এবং আড্ডা দিতে পারেন। রেভের অভিযোগ, ২০২৫ সালে তাদের অ্যাপটি স্টোর থেকে সরিয়ে দেয় অ্যাপল। যদিও অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রতারণামূলক কার্যক্রমের’ অজুহাত দিয়েছে, কিন্তু রেভের দাবি এটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা।
রেভের ভাষ্যমতে, ২০২১ সালে অ্যাপল যখন নিজস্ব ‘শেয়ারপ্লে’ (SharePlay) ফিচার চালু করে, তখন থেকেই রেভ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। রেভ মূলত বিজ্ঞাপন থেকে আয় করত এবং অ্যাপলের ইন-অ্যাপ পারচেজ কমিশন ব্যবস্থার আওতাভুক্ত ছিল না। রেভের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পাজারাটজ জানান, অ্যাপল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোক্তাদের পছন্দ সীমিত করছে এবং আইফোন ব্যবহারকারীদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ভিডিও দেখার সুযোগ বাধাগ্রস্ত করছে।
অন্যদিকে অ্যাপল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, রেভ অ্যাপটিতে পর্নোগ্রাফিক, পাইরেটেড কনটেন্ট এবং শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত (CSAM) অবৈধ কন্টেন্ট শেয়ার করার মতো গুরুতর নীতিমালা লঙ্ঘন খুঁজে পাওয়ায় সেটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রেভ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল ও রাশিয়াতে অ্যাপলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে ‘এপিক গেমস’ অ্যাপলের বিরুদ্ধে একই ধরণের মামলা করে জয়ী হয়েছিল। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপ স্টোরের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়বে।
জান্নাত/সকালবেলা