রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের সরকারি খুঁটি-তার ব্যক্তিগত বাড়িতে নেওয়ার অভিযোগ
আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ :সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের কার্যালয় থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি সিমেন্টের খুঁটি এবং কাটা জিআই তার ট্রাকে করে বেআইনিভাবে ব্যক্তিগত বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকারের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয়দের সচেতনতা ও হস্তক্ষেপে এসব নির্মাণসামগ্রীসহ ট্রাকটি আটক করা হয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত খুঁটি ও তারগুলো জব্দ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি ট্রাকে করে এসব মূল্যবান নির্মাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজনের মনে সন্দেহ জাগে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মাস্টার রোলে কর্মরত কয়েকজন কর্মচারীকে ব্যবহার করে প্রকাশিভাবে এসব খুঁটি ও কাটা তার ট্রাকে তোলা হয়। মালামাল লোডের পর ট্রাকটি মাসুদ সরকারের নিজ জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি টের পেয়ে পথেই ট্রাকটির গতি রোধ করেন এবং খুঁটি ও তারগুলো সরকারি নাকি ব্যক্তিগত সম্পত্তি—তা নিয়ে জবাবদিহিতা চান। এ সময় গাড়িতে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ‘মাসুদ স্যার এসব সামগ্রী তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছেন।’ তবে সরকারি ছুটির দিনে কিংবা যেকোনো সময়ে প্রকল্প কার্যালয় থেকে সরকারি এসব সামগ্রী বাইরে নেওয়ার পক্ষে সংশ্লিষ্টরা কোনো বৈধ কাগজপত্র বা চালান দেখাতে পারেননি।
আটককৃত ট্রাকচালক আব্দুর রহমান খন্দকার জানান, “এই খুঁটি ও তার কার, তা আমি জানি না। তবে মাসুদ স্যার আমাকে খুঁটি ও তারগুলো তাঁর নিজ বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। ভাড়ার চুক্তি অনুযায়ী আমি মালগুলো নিয়ে যাচ্ছিলাম। এসব পণ্য পরিবহনের কোনো কাগজপত্র বা চালান আমাকে দেওয়া হয়নি।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাসুদ সরকার নিজে সরাসরি উপস্থিত থেকে খুঁটি ও তারগুলো ট্রাকে তুলে দিয়েছিলেন।
নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয়ের পাম্প অপারেটর মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অফিসের পুকুরে প্রোটেকশন দেয়াল নির্মাণের জন্যই মূলত এই সিমেন্টের খুঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেখানে গাইড ওয়াল নির্মাণ করায় খুঁটিগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় অফিস প্রাঙ্গণেই ছিল।
তবে ঢালাও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ সরকার দাবি করেন, “আমি সম্পূর্ণ নিজের টাকায় এসব খুঁটি ও কাটা তার তৈরি করেছি।” যদিও সরকারি অফিসে রাখা এই সামগ্রী তাঁর ব্যক্তিগত অর্থে তৈরি—এমন দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জুব্বার বলেন, “মৌখিক অভিযোগ ও সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করার পর নিমগাছী মৎস্য প্রকল্প কার্যালয় থেকে বের হওয়া খুঁটি ও তারগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও (ইউএনও) বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
অন্যদিকে নিমগাছী মৎস্য প্রকল্পের পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে রাজশাহী অঞ্চলের মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন এবং অভিযুক্ত মাসুদ সাহেব ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলে তাঁকে অবহিত করেছেন।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ধারকৃত খুঁটি ও কাটা তারের আসল মালিকানা এবং সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি এই সম্পদ পাচারচেষ্টার নেপথ্য সত্য তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।