চুয়াডাঙ্গায় রাফিজ হত্যা মামলার আসামি লাল্টু গ্রেফতার
নাজিয়াত হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রবাসীর ১৫ বছর বয়সী ছেলে রাফিজ মিয়াকে অপহরণের পর ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডস্থলে অভিযান চালিয়ে অপরাধে ব্যবহৃত রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে লাল্টুকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের কিশোর রাফিজ মিয়া একটি ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই দিন রাত ১১টার দিকে তার দাদি আমেনা খাতুনের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রাফিজের কান্নার শব্দ শুনিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় অপহরণকারীরা।
অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পারে, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকার কারণে পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেই এই অপহরণের ছক কষা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে রাফিজকে মোটরসাইকেলে তুলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
পরিবারের কাছ থেকে আশানুরূপ টাকা না পেয়ে অপহরণের রাতেই গলায় রশি পেঁচিয়ে রাফিজকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহটি অর্জুন খালে ফেলে দিয়েও অপরাধীরা রাফিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে আরও কয়েক দফা মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। অপহরণের আট দিন পর, গত ১৩ জুন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশের একটি পুকুর থেকে রাফিজের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। এর আগে ১০ জুন রাফিজের দাদি আমেনা খাতুন বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডের পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি যৌথ টিম মাঠে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৬ জুন রাজবাড়ী থেকে প্রধান পলাতক আসামি লাল্টু মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে লাল্টু মিয়া রাফিজকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেখানো মতে অর্জুন খালের পাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশিটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তি এবং নিবিড় গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই পার পাবে না।”
এআইএল/সকালবেলা
|