রেলওয়ের পুকুর ভরাট করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ
মোল্লা মো: আরিফুল ইসলাম, নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন ব্রিটিশ আমলের একটি পুকুর ভরাট করে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে সরকারি এই জলাশয় দখল করে সেখানে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাধনগর রেলওয়ে স্টেশনের সামনের ঐতিহ্যবাহী পুরোনো পুকুরটির একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে টিনশেড ও আধাপাকা দোকান নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় এই পুকুরটি স্টেশন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রভাবশালীদের গ্রাসে পুকুরটির অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাতেনূর রহমান মৃধা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি ব্রিটিশ আমলের রেলওয়ের পুকুর। বহু বছর ধরে মানুষ এই পুকুরটি দেখে আসছে। এখন মসজিদের সামনের এই পুকুরটি পরিকল্পিতভাবে ভরাট করা হচ্ছে। সরকারি জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করা হলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।” আরেক বাসিন্দা রবিউল আলম দ্রুত এই অবৈধ দখল বন্ধ করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর দাবি জানান।
সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাসুদ রানা দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমি কোনো অবৈধ কাজ করছি না। বর্তমানে দোকান নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করুক। তদন্তে যা সত্য প্রমাণিত হবে, সেটিই মেনে নেওয়া হবে।”
মাধনগর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল আওয়াল বলেন, “রেলওয়ের জায়গা দখলের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আমরা ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। রেলওয়ের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন বলেন, “সরকারি জমি বা রেলওয়ের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে আইন অনুযায়ী দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, মাধনগরের এই পুকুরটি শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। তাই দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পুকুর পুনরুদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এআইএল/সকালবেলা
|