অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা: ভেনেজুয়েলায় একটু পর পর হচ্ছে ভূমিকম্প

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ণ
অভিযান চালাতে ভয় পাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা: ভেনেজুয়েলায় একটু পর পর হচ্ছে ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার পর থেকে দেশটিতে ক্রমাগতভাবে ছোট ছোট মৃদু ভূমিকম্প (আফটারশক) আঘাত হেনে যাচ্ছে। অনবরত এই কম্পনের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে দেশটির উপদ্রুত এলাকায় ধসে পড়া ভবনের ভেতরে ঢুকে জরুরি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মূলত একটু পর পর নতুন করে মাটি কেঁপে ওঠায় ধসের আশঙ্কায় উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতরে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালাতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার সন্ধ্যায় অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী এক ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এরপর থেকেই দুর্যোগকবলিত এলাকায় যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন কিংবা ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের দ্রুত সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা। কিন্তু অনবরত হতে থাকা ছোট ছোট ভূমিকম্প বা আফটারশক তাঁদের এই মানবিক ও জরুরি কাজকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেডক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের ত্রাণ সমন্বয়ক লয়সি পেস মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “ভেনেজুয়েলায় নিয়োজিত আমাদের মাঠপর্যায়ের দলের সঙ্গে যখনই আমি কথা বলি, তখনই তাঁরা একেকটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভব করার কথা জানান। অর্থাৎ সেখানে অব্যাহতভাবে ও বিরতিহীনভাবে ভূমিকম্প হয়েই চলেছে। বিষয়টি আসলেই অত্যন্ত ভয়ানক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে আমাদের উদ্ধারকারী দল যখনই সহায়তার জন্য আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাচ্ছে, তখন তাঁদের জানমালের সুরক্ষায় খুব সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হচ্ছে।”

লয়সি পেস আরও সতর্ক করে বলেন, “এত ঘন ঘন আফটারশক হওয়ার অর্থ হলো, যেসব সাধারণ মানুষ তাদের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ঘরবাড়িতে প্রবেশ করছেন, তাঁদেরও অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। মানুষ দ্রুত নিজের চেনা বাড়িতে ফিরতে চায়, তাঁরা আবারও আগের মতো নিরাপদ অনুভব করতে চায়। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের সেসব ঘরবাড়িতে তীব্র অনিরাপত্তা ও ঝুঁকি রয়েছে। ভূমিকম্পের ধাক্কায় অনেক ভবনই চরমভাবে নড়বড়ে হয়ে আছে এবং যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”

এদিকে, একের পর এক হতে থাকা আফটারশক এবং পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে— এমন চরম আতঙ্কের কারণে ভেনেজুয়েলার বেশিরভাগ মানুষ এখনও তাঁদের ঘরবাড়িতে ফিরছেন না। কোনো ধরণের ঝুঁকি না নিয়ে তাঁরা খোলা জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি অস্থায়ী তাঁবুতেই দিন কাটাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন