জাকাত ডেটাবেইজ ও জাকাত টেলিভিশন চালুর প্রস্তাব

প্রকাশ: শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ণ
জাকাত ডেটাবেইজ ও জাকাত টেলিভিশন চালুর প্রস্তাব

সংসদ বিষয়ক প্রতিবেদক: বাংলাদেশে জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের একটি সুনির্দিষ্ট তথ্যভান্ডার (ডেটাবেইজ) তৈরি এবং জাকাত ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে ‘জাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

আজ শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ভোলা-১ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য এসব ব্যতিক্রমী প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আন্দালিব রহমান পার্থ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জাকাত বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি অন্যতম শক্তিশালী কিন্তু প্রচ্ছন্ন খাত (হিডেন ইকোনমি)। দুর্ভাগ্যবশত, দেশে প্রতি বছর ঠিক কত টাকা জাকাত আদায় বা বণ্টন করা হয়, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব আমাদের কাছে নেই।”

তিনি প্রস্তাব করেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় প্রকৃত অর্থেই কারা জাকাত পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের নামের একটি নির্ভরযোগ্য ডেটাবেইজ তৈরি করা প্রয়োজন। প্রতিটি আসনে যদি গড়ে ২০ হাজার করে যোগ্য ব্যক্তি চিহ্নিত করা হয়, তবে দেশজুড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের একটি বিশাল তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব। এটি সম্পন্ন হলে দেশ ও প্রবাসে থাকা বিত্তশালী দাতারা খুব সহজেই অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে তাঁদের জাকাতের অর্থ পৌঁছে দিতে পারবেন।

দেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, রাতারাতি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শতভাগ ইসলামী ব্যাংকিংয়ে রূপান্তর সম্ভব নয়। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সরকারকে এই খাতের সম্প্রসারণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ এখন ইসলামী অর্থায়নকে উৎসাহিত করছে। বিগত দিনে কিছু ইসলামী ব্যাংকে ঘটে যাওয়া অনিয়মের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, “সমস্যা ইসলামী ব্যাংকিং দর্শনে বা ব্যবস্থায় ছিল না, সমস্যা ছিল ওই সব মানুষের মধ্যে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক লুট করেছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের সঠিক সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ বয়ে আনবে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীত দুর্বলতার সমালোচনা করে পার্থ বলেন, বিগত সরকারগুলোর আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় যে ভয়াবহ দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার কারণেই মূলত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছে। তখন জাতীয় উন্নয়নের চেয়ে পরিকল্পিত লুটপাটই প্রাধান্য পেয়েছিল।

তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, গত চার মাসে দেশে বড় ধরনের কোনো ব্যাংক লুটপাট বা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। তাই একটি সুশাসিত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে এই সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় ও সুযোগ দেওয়া উচিত। একই সাথে এবারের বাজেটে এতিম, নারী, অবহেলিত ও শারীরিকভাবে অক্ষম (চ্যালেঞ্জড) মানুষের জন্য যে সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, তাকে একটি জনবান্ধব সরকারের ইতিবাচক প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন