কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ১৯ লাখ টাকা উধাও

প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ১৯ লাখ টাকা উধাও

কুমিল্লা প্রতিনিধি: ইসলামী ব্যাংক পিএলসি কুমিল্লা শাখায় মো. হাসান মজুমদার (৪৬) নামের এক গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থেকে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। কোনো ধরনের ওটিপি বা মেসেজ ছাড়াই অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক নিজেই বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মোমিনুল হকের আদালতে হাজির হয়ে তিনি মামলাটি করেন। বিচারক আরজিটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাকে সরাসরি এফআইআর (এজাহার) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার প্রধান অভিযুক্তরা হলেন—রাজধানীর মিরপুর-১-এর আহমেদনগরের ‘শাহ ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী এবং পুৰালী ব্যাংকের বরিশাল ধামুড়া বাজার উপশাখার গ্রাহক মো. সোহেলসহ মোট ছয়জন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন থেকে ৪ জুনের মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার বা জালিয়াতি চক্র মো. হাসান মজুমদারের ইসলামী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন দফায় সর্বমোট ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা জালিয়াতি করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর (ট্রান্সফার) করে নেয়। ডিজিটাল এই লেনদেনের সময় ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের মুঠোফোনে কোনো প্রকার নিশ্চিতকরণ ফোনকল, ওটিপি বা মেসেজ পাঠানো হয়নি।

গত ৭ জুন দুপুরে হাসান মজুমদার ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখায় টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। পরবর্তীতে ব্যাংকের স্টেটমেন্ট ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, জালিয়াতি হওয়া টাকাগুলো এনআরবিসি ব্যাংকের মিরপুর শাখার ‘শাহ ট্রেডার্স’-এর অ্যাকাউন্ট, পুবালী ব্যাংকের বরিশাল ধামুড়া বাজার উপশাখার মো. সোহেলের অ্যাকাউন্ট এবং একাধিক বিকাশ ও নগদ নম্বরে পাঠানো হয়েছে।

টাকা খোয়ানোর পর আইনি প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগী হাসান মজুমদার আদালতের দ্বারস্থ হন এবং অর্থ উদ্ধারে ইসলামী ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মোহাম্মদ হোসাইন আখতার সকালবেলা-কে বলেন, “গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা অন্য কোথাও ট্রান্সফার বা উত্তোলন করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের রেজিস্টার্ড ফোনে মেসেজ ও নোটিফিকেশন যাওয়ার কথা। আমাদের শাখায় এমন কোনো ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে কি না তা আমার জানা নেই। আদালতে মামলা হওয়ার কোনো কাগজপত্রও আমরা এখনও পাইনি। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত আমাদের কাছে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা চাইলে আমরা তা প্রদান করব।”

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, “গ্রাহকের অজান্তে অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল অর্থ উধাও হওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দণ্ডবিধি আইনে আদালতে মামলা করেছি। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আদালতের নির্দেশনার কপি বা মামলার নথি এখনও আমাদের থানায় এসে পৌঁছায়নি। আদালতের কাগজপত্র হাতে পাওয়া মাত্রই মামলা নথিভুক্ত করে আসামিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন