‘শাপলার কসাই শেষ, এবার পরের জন’
অনলাইন ডেস্ক: দুর্নীতির ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে ইঙ্গিত করে তিনি তাঁকে ‘শাপলার কসাই’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর শফিকুল আলম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ইংরেজিতে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “The butcher of Shapla is done!! Next in line...!!” যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়— ‘শাপলার কসাইয়ের অধ্যায় শেষ!! এবার পরবর্তী জনের পালা...!’ তাঁর এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন (চেহারা শনাক্তকরণ) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেনজীর আহমেদকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। এর আগে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারি করা হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন (শুক্রবার) তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ।
অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলায় এখন গ্রেপ্তার হলেও, মূলত কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই দেশের বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের আকাশচুম্বী দুর্নীতি ও বিপুল অবৈধ সম্পদের খতিয়ান প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নেমে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের নামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সত্যতা খুঁজে পায়, যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা হয়।
দুর্নীতির পাশাপাশি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনা। ওই দিন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে চালানো অভিযানে ব্যাপক নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন সময়ে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং এই অভিযানের মূল দায়িত্বে ছিলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৫৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই নৃশংস গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হলেন এই সাবেক আইজিপি। তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার।
এআইএল/সকালবেলা
|