আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক রিমান্ডে
বিশেষ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমানের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জামশেদ শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সাথে এই রিমান্ড আগামী তিন দিনের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (১৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাতের আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন।
ত্বকী হত্যা মামলার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, এর আগে গত ৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল এসপি) দীপক চন্দ্র মজুমদার আসামি জামশেদ শেখকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। আদালত তখন রিমান্ড মঞ্জুর করে তিন দিনের মধ্যে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ডিউটিতে ব্যস্ত থাকায় ওই সময় জামশেদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেননি। এই কারণে আজ তদন্ত কর্মকর্তা পুনরায় রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ আদালতে শুনানিতে ত্বকীর বাবা ও মামলার বাদী রফিউর রাব্বির পক্ষে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, প্রদীপ ঘোষ বাবু এবং জিয়াউল ইসলাম কাজল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুন বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার ১০৪তম ধার্য তারিখ ছিল। তবে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এই দিনে আদালতে মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র্যাব। মামলার মোট ১১ জন আসামির মধ্যে ওই দিন ৮ জন আদালতে হাজিরা দেয়। ২ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে এবং বাকি ১ জন আইনজীবীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে সুধীজন পাঠাগারের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দুই দিন পর, ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বেই ত্বকীকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের নির্দেশেই তাদের নিজস্ব টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে এবং অচিরেই অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করা হবে। কিন্তু সেই খসড়া চার্জশিট প্রকাশের পর দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও তা আজও আদালতে পেশ করা হয়নি।
এদিকে ত্বকী হত্যার বিচার শুরু এবং চিহ্নিত আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
এআইএল/সকালবেলা
|